দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড ক্রনিকলস তৃতীয় অধ্যায়

পাতালে পতন: ঘুমন্ত শহরের যান্ত্রিক জাগরণ

অ্যাডভেঞ্চারের রোমাঞ্চ এবার রূপ নিল এক রুদ্ধশ্বাস ও গা ছমছমে পরিস্থিতিতে। লেখক এম. আর. স্টার্লিং তাঁর দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড ক্রনিকলস: বুক ওয়ান অফ দ্য সান-ক্রিস্টাল Artifacts কাহিনীর তৃতীয় অধ্যায়ে আমাদের নিয়ে গেছেন পাতালপুরীর এক নিষিদ্ধ জগতে। “পাতালে পতন” শিরোনামের এই অধ্যায়টি পাঠকদের প্রতিটি মুহূর্তে চরম উত্তেজনার মুখোমুখি দাঁড় করাবে।

শূন্যে মরণঝাঁপ এবং কঙ্কালের শহর
গল্পের শুরুতেই আমরা ইলিয়াস এবং মায়াকে ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে এক অন্তহীন শূন্যতায় তলিয়ে যেতে দেখি। ওপরের প্রবেশদ্বারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চারদিকের বাতাস কেবল শোঁশোঁ শব্দে ভারী হয়ে উঠছিল। তবে, ইলিয়াসের কোমরের হারনেসে বাঁধা ক্লাইম্বিং দড়িটি ওপরের একটি প্রকাণ্ড গাছের শিকড়ে আটকানো ছিল। ফলে, হঠাৎ এক প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে তাদের পতন থামে এবং তারা শূন্যে ঝুলতে শুরু করে।

ইলিয়াস যখন তাঁর হেলমেটের হেডল্যাম্পটি জ্বালালেন, তখন আলোর রেখায় এক অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক দৃশ্য ফুটে ওঠে। তারা ঝুলছিল পাথরের তৈরি বিশাল সব পিরামিড এবং ধাতব পাতে মোড়ানো অদ্ভুত এক প্রাচীন শহরের ঠিক ওপরে। তবে সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া বিষয় ছিল, নিচের সেই রাস্তাগুলোয় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল শত শত মানুষের প্রাচীন কঙ্কাল

জীবন বাঁচাতে পেন্ডুলামের মতো দোল
দুর্ভাগ্যবশত, বিপদের এখানেই শেষ ছিল না। ওপরের ঘাতক দলটি নিচে নামতে না পারলেও, তারা ওপরের গাছের শিকড় ও দড়ির প্রান্তটি কেটে ফেলা শুরু করে। নিচে তখনো কমপক্ষে চল্লিশ ফুটের বিপজ্জনক গভীরতা। সুতরাং, সোজা নিচে পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু জেনে ইলিয়াস এক বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মায়াকে নিয়ে দড়ি ধরে শূন্যে ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো জোরে জোরে দুলতে শুরু করেন।

তাদের লক্ষ্য ছিল সামনের একটি প্রাচীন মন্দিরের পাথরের ব্যালকনি। ঠিক যখন ওপরের দড়িটি পুরোপুরি ছিঁড়ে যায়, তখনই তারা দুজনে বাতাসে এক মরণঝাঁপ দেয়। ইলিয়াস ব্যালকনির রেলিংয়ে আছড়ে পড়ে কোনোমতে একটি থাম আঁকড়ে ধরেন। অন্যদিকে, মায়ার হাত পাথর থেকে পিছলে যাওয়ার মুহূর্তে ইলিয়াস দ্রুত তাঁর কবজি চেপে ধরে প্রাণপণে তাঁকে ওপরে টেনে তোলেন।

অন্ধকারের লাল চোখ এবং নতুন আতঙ্ক
পাথরের মেঝেতে শুয়ে তারা যখন সবেমাত্র স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছিলেন, ঠিক তখনই পেছনের গভীর অন্ধকার থেকে এক অদ্ভুত ধাতব গিয়ার ঘোরার শব্দ ভেসে আসে। মুহূর্তের মধ্যে মন্দিরের নিকষ কালো অন্ধকার ফুঁড়ে দুটো লাল আলো জ্বলে ওঠে, যা দেখতে হুবহু কোনো যান্ত্রিক চোখের মতো লাগছিল। এরপর একে একে আরও জোড়া জোড়া লাল চোখ অন্ধকারে দৃশ্যমান হতে থাকে।

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, হাজার বছর ধরে লুকিয়ে থাকা এই পাতাল শহরটি আসলে মৃত নয়। বরং, এটি এত বছর পর নতুন করে জেগে উঠছে। কোনো বড়সড় বিপদের আভাস পেয়ে ইলিয়াস দ্রুত তাঁর পকেট থেকে রিভলবারটি বের করেন এবং মায়াকে দৌড়ানোর নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading