দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড ক্রনিকলস চতুর্থ অধ্যায় ও মিশন সমাপ্তি

যান্ত্রিক শিকারী: গ্রিন স্টারের গুপ্ত দ্বারে সফল অভিযান

  অ্যাড্রেনালিন, আতঙ্ক এবং চরম রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে অবশেষে শেষ হলো দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড ক্রনিকলস: বুক ওয়ান (টোম্ব অফ দ্য গ্রিন স্টার)-এর প্রথম পর্বের যাত্রা। লেখক এম. আর. স্টার্লিং তাঁর চতুর্থ অধ্যায় “যান্ত্রিক শিকারী”-তে আমাদের দেখিয়েছেন এক রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তি। এই চূড়ান্ত অধ্যায়টি পাঠকদের নিয়ে যায় এক ঐতিহাসিক আবিষ্কারের দোরগোড়ায়।

নিরেট ধাতুর দানব ও ধ্বংসাত্মক তাড়া
মন্দিরের অন্ধকার ফুঁড়ে ভারী ধাতব পায়ের শব্দ এগিয়ে আসছিল। থপ, থপ, থপ—প্রতিটি পদক্ষেপে পুরো মন্দির কেঁপে উঠছিল। ইলিয়াস তাঁর রিভলবার উঁচিয়ে পরপর দুবার ট্রিগার চাপলেও কোনো লাভ হলো না। কারণ, সেই লাল চোখের প্রাণীগুলো রক্ত-মাংসের ছিল না। বুলেটগুলো নিরেট ধাতুর গায়ে লেগে কেবল আগুনের ফুলকি ছড়াচ্ছিল।

হঠাৎ করেই অন্ধকার থেকে একটি বিশাল ধাতব থাবা ধেয়ে আসে। তবে, ইলিয়াস দ্রুত মায়াকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়ায় তারা অল্পের জন্য বেঁচে যায়। কিন্তু দানবটির থাবার আঘাতে ব্যালকনির শক্ত পাথরের রেলিংটি ভেঙে গুঁড়িয়ে নিচে কঙ্কালের স্তূপে গিয়ে পড়ে। সুতরাং, জীবন বাঁচাতে তারা মন্দিরের সরু প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরের দিকে দৌড়াতে শুরু করে।

ফাটলের ভেতরের মরণঝাঁপ
তাদের পেছনে ধাওয়া করা যান্ত্রিক দানবগুলোর পায়ের নিচে শত শত বছরের পুরনো কঙ্কালগুলো মড়মড় করে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছিল। হেডল্যাম্পের আলোয় হঠাৎ দেখা গেল সামনের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ। একটি বিশাল নিরেট পাথরের দেয়াল তাদের পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে। যাই হোক, সেই দেয়ালের একেবারে নিচে একটি সরু ফাটল ছিল একমাত্র ভরসা।

ইলিয়াসের নির্দেশে মায়া দ্রুত মাটিতে শুয়ে সাপের মতো কনুইয়ে ভর দিয়ে ফাটলের ভেতরে গলে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি দানব ইলিয়াসের ঘাড়ের কাছে চলে আসে। তার হিমশীতল লাল চোখ দুটো অন্ধকারের মাঝে জ্বলজ্বল করছিল। দানবটি আঘাত করার জন্য হাত তোলার সাথে সাথেই ইলিয়াস সোজা ডাইভ দিয়ে ফাটলের ভেতর ঢুকে পড়েন। দানবটির হাত পাথরের দেয়ালে আছড়ে পড়ায় পুরো এলাকা ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। কিন্তু ফাটলটি বড্ড সরু হওয়ায় যান্ত্রিক শিকারীটি ভেতরে ঢুকতে না পেরে একসময় ফিরে যায়।

মিশন সমাপ্তি: টোম্ব অফ দ্য গ্রিন স্টার
সব বিপদ কেটে যাওয়ার পর ইলিয়াস ও মায়া যখন উঠে দাঁড়ালেন, তখন চারপাশের দৃশ্য বদলে গেছে। তারা এখন যে সুড়ঙ্গের ভেতর আছেন, সেটি আর অন্ধকার নয়। বরং, এর দেয়ালগুলো থেকে একটি অদ্ভুত এবং রহস্যময় সবুজ আলো স্পন্দিত হচ্ছিল।

সেই আলোর উৎস অনুসরণ করে তারা সুড়ঙ্গের ঠিক শেষ প্রান্তে গিয়ে পৌঁছান। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল সোনা এবং অবসিডিয়ান পাথর দিয়ে তৈরি এক রাজকীয় ও বিশাল দরজা। আর সেই প্রধান দরজার ঠিক মাঝখানে খোদাই করা ছিল একটি জ্বলজ্বলে সবুজ তারা। অবশেষে ইলিয়াস এবং মায়ার প্রথম মিশনটি সফল হলো। কারণ, বহু আকাঙ্ক্ষিত ‘টোম্ব অফ দ্য গ্রিন স্টার’ এবং আসল রহস্যের মূল তোরণ এখন ঠিক তাদের চোখের সামনে।

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading