ইলিশ পোলাও রেসিপি খুঁজছেন? তাহলে আজকের এই রান্নাটি আপনার ভালো লাগতে পারে।
ইলিশের ঘ্রাণ আর সুগন্ধি চালের স্বাদ একসঙ্গে দারুণ লাগে।
বিশেষ করে বাড়িতে অতিথি এলে এই রান্না বেশ জমে যায়।
ইলিশ দিয়ে নানা ধরনের রান্না করা হয়।
তবে পোলাওয়ের সঙ্গে ইলিশের স্বাদ একটু আলাদা।
মাছের তেল ধীরে ধীরে পোলাওয়ের মধ্যে মিশে যায়।
ফলে ভাতের প্রতিটি দানায় ইলিশের সুন্দর ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
কী কী লাগবে
ইলিশ মাছের জন্য
- ইলিশ মাছ ৬ টুকরা
- হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ
- লবণ স্বাদমতো
- সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ
পোলাওয়ের জন্য
- সুগন্ধি চাল ২ কাপ
- পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
- আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
- রসুন বাটা ১ চা চামচ
- কাঁচা মরিচ ৫–৬টি
- দারুচিনি ২ টুকরা
- এলাচ ৩টি
- লবঙ্গ ৩টি
- তেজপাতা ২টি
- জিরা আধা চা চামচ
- ঘি ২ টেবিল চামচ
- সরিষার তেল ২ টেবিল চামচ
- লবণ স্বাদমতো
- চিনি আধা চা চামচ
- গরম পানি প্রয়োজনমতো
প্রথমে ইলিশ মাছ ভেজে নিন
ইলিশ মাছ পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে নিন।
এরপর লবণ ও হলুদ মেখে কিছুক্ষণ রেখে দিন।
কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করুন।
মাছগুলো তেলে দিয়ে দুই পাশ হালকা করে ভেজে নিন।
ইলিশ বেশি ভাজার দরকার নেই।
হালকা ভাজলেই মাছের স্বাদ ভালো থাকে।
মাছ ভাজা হয়ে গেলে আলাদা একটি প্লেটে তুলে রাখুন।
এবার পোলাও রান্না শুরু করুন
চাল কয়েকবার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
তারপর ১৫ মিনিটের মতো ভিজিয়ে রাখুন।
পরে পানি ঝরিয়ে চাল আলাদা করে রাখুন।
একটি ভারী হাঁড়ি চুলায় বসান।
এর মধ্যে ঘি ও সামান্য সরিষার তেল দিন।
তেল গরম হলে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ও তেজপাতা দিন।
সঙ্গে সামান্য জিরাও দিয়ে দিন।
মসলা থেকে সুন্দর গন্ধ বের হওয়া পর্যন্ত একটু ভেজে নিন।
এবার পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন।
পেঁয়াজ হালকা বাদামি হলে আদা ও রসুন বাটা দিন।
মসলা ভালোভাবে কষিয়ে নিন।
এরপর ধোয়া চাল হাঁড়িতে দিয়ে দিন।
চাল মসলার সঙ্গে কয়েক মিনিট নেড়ে নিন।
এই ধাপটি বাদ না দেওয়াই ভালো।
এতে পোলাওয়ের ঘ্রাণ বেশ ভালো আসে।
এখন গরম পানি ঢেলে দিন।
সঙ্গে লবণ, সামান্য চিনি এবং কাঁচা মরিচ দিন।
পানি ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে দিন।
এবার আসবে আসল স্বাদ
চাল যখন প্রায় ৭০ শতাংশ সিদ্ধ হবে, তখন ভাজা ইলিশের টুকরাগুলো দিন।
মাছগুলো চালের মধ্যে সাবধানে বসিয়ে দিন।
চামচ দিয়ে বেশি নাড়াচাড়া করবেন না।
এবার হাঁড়ির ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে দিন।
কম আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রান্না হতে দিন।
এই সময়টাতেই ইলিশের তেল ও ঘ্রাণ পোলাওয়ের সঙ্গে মিশে যাবে।
চুলা বন্ধ করার পর আরও পাঁচ মিনিট ঢাকনা খুলবেন না।
তারপর ঢাকনা খুলে দেখুন।
সুগন্ধে পুরো রান্নাঘর ভরে যাবে।
পরিবেশন করার সময়
পোলাও খুব সাবধানে নেড়ে নিন।
তবে ইলিশের টুকরাগুলো যেন ভেঙে না যায়।
গরম গরম পোলাও প্লেটে তুলে একটি ইলিশের টুকরা দিন।
সঙ্গে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ রাখতে পারেন।
ইচ্ছা করলে সামান্য ঘিও ওপরে ছড়িয়ে দিতে পারেন।
আমার কাছে ইলিশ পোলাওয়ের আসল সৌন্দর্য হলো এর সরল স্বাদ।
তাই অনেক বেশি মসলা দিয়ে ইলিশের নিজস্ব ঘ্রাণ ঢেকে ফেলার দরকার নেই।
রান্নার কয়েকটি ছোট টিপস
ইলিশ খুব বেশি ভাজবেন না।
তাহলে মাছ শক্ত হয়ে যেতে পারে।
পোলাও রান্নায় সম্ভব হলে গরম পানি ব্যবহার করুন।
চাল দেওয়ার পর অতিরিক্ত নেড়েচেড়ে দেবেন না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শেষের দম।
কম আঁচে ধীরে রান্না করলেই পোলাও ঝরঝরে হবে।
শেষ কথা
ইলিশ পোলাও আসলে একটু যত্ন নিয়ে রান্না করার খাবার।
সময় নিয়ে রান্না করলে স্বাদে তার পার্থক্য বোঝা যায়।
ছুটির দিন কিংবা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে একবার রান্না করে দেখতে পারেন।
পরিবারের সবাই মিলে গরম গরম ইলিশ পোলাও খাওয়ার আনন্দই আলাদা।









