কোন গাছের বীজ সংরক্ষণ করা যায় না

বাগান করার সময় অনেকেই গাছের বীজ সংগ্রহ করে রাখেন। পরে সুবিধামতো সেই বীজ মাটিতে বপন করেন। কিন্তু সব বীজ একইভাবে দীর্ঘদিন রাখা যায় না। তাই কোন গাছের বীজ সংরক্ষণ করা যায় না, তা জানা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বীজ শুকিয়ে গেলে দ্রুত অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা হারায়। এসব বীজকে সাধারণত সংরক্ষণ করা কঠিন বীজ বলা হয়।

কোন গাছের বীজ সংরক্ষণ করা যায় না

সব বীজ কি শুকিয়ে রাখা যায়?

না, সব বীজ শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় না। কিছু বীজ কম আর্দ্রতায় শুকিয়ে ফেললে তাদের জীবন্ত কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ ধরনের বীজকে সাধারণভাবে recalcitrant seed বা সংরক্ষণ-অসহনশীল বীজ বলা হয়।

অন্যদিকে, অনেক বীজ ভালোভাবে শুকিয়ে ঠান্ডা ও শুষ্ক পরিবেশে রাখলে দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকতে পারে। এগুলোকে সাধারণভাবে orthodox seed বলা হয়।

কোন গাছের বীজ সংরক্ষণ করা কঠিন?

বিভিন্ন গাছের বীজ দীর্ঘদিন শুকিয়ে রাখা কঠিন। যেমন নারকেল, আম, কাঁঠাল এবং লিচুর বীজ সংরক্ষণ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।

বিশেষ করে এসব গাছের তাজা বীজ দ্রুত বপন করলে সাধারণত ভালো ফল পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন শুকিয়ে রেখে দিলে অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

তবে প্রজাতি এবং সংরক্ষণের পরিবেশ অনুযায়ী ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।

নারকেলের বীজ

নারকেলের বীজ সাধারণ শুকনো বীজের মতো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সহজ নয়। নারকেল থেকে চারা তৈরি করতে সাধারণত পরিপক্ব নারকেল ব্যবহার করা হয়।

অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই চারা উৎপাদনের উদ্দেশ্যে নারকেল বেছে নেওয়ার সময় সতেজ ও উপযুক্ত নারকেল নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আমের বীজ

আমের আঁটি থেকে সহজেই চারা তৈরি করা যায়। তবে আমের বীজ দীর্ঘদিন শুকিয়ে রেখে দিলে অঙ্কুরোদ্গমের ক্ষমতা দ্রুত কমতে পারে।

তাই আম খাওয়ার পর বীজ ফেলে না দিয়ে দ্রুত বপন করা ভালো। বীজ পরিষ্কার করে উপযুক্ত মাটিতে লাগালে চারা গজানোর সম্ভাবনা থাকে।

কাঁঠালের বীজ

কাঁঠালের বিচি আমাদের পরিচিত একটি বীজ। এটি খাবার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

তবে কাঁঠালের বীজ দীর্ঘদিন শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই কাঁঠালের বিচি দিয়ে চারা তৈরি করতে চাইলে খুব বেশি সময় অপেক্ষা না করাই ভালো।

লিচুর বীজ

লিচুর বীজও দীর্ঘদিন শুকিয়ে রাখা কঠিন। ফল খাওয়ার পর বীজ দ্রুত শুকিয়ে গেলে তা থেকে চারা তৈরির সম্ভাবনা কমতে পারে।

তাই লিচুর বীজ দিয়ে গাছ তৈরি করতে চাইলে তাজা বীজ ব্যবহার করা ভালো।

কেন এসব বীজ সংরক্ষণ করা কঠিন?

এসব বীজের মধ্যে এমন জীবন্ত টিস্যু থাকে, যা অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া সহ্য করতে পারে না।

সাধারণ শুকনো বীজের তুলনায় এদের আর্দ্রতার প্রয়োজনীয়তা বেশি হতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন শুকিয়ে রাখলে বীজের জীবনীশক্তি নষ্ট হতে পারে।

তবে শুধু আর্দ্রতা নয়, তাপমাত্রা এবং পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বীজ সংরক্ষণের আগে কী করবেন?

প্রথমে জানতে হবে বীজটি কোন ধরনের। সব বীজের জন্য একই সংরক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়।

যেসব বীজ শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়, সেগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর বায়ুরোধী পাত্রে রেখে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করা যায়।

অন্যদিকে, শুকানো সহ্য করে না এমন বীজের ক্ষেত্রে দ্রুত বপন করা অনেক সময় ভালো পদ্ধতি।

তাজা বীজের সুবিধা

তাজা বীজ সাধারণত ভালো অবস্থায় থাকলে দ্রুত অঙ্কুরিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ফল খাওয়ার পর বীজ ফেলে না দিয়ে চারা তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়।

বীজ থেকে গাছ তৈরি করতে চাইলে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ও পরিপক্ব ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করা উচিত।

শেষ কথা

তাহলে কোন গাছের বীজ সংরক্ষণ করা যায় না? নারকেল, আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো কিছু গাছের বীজ দীর্ঘদিন শুকিয়ে সংরক্ষণ করা কঠিন।

এসব বীজ অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই চারা তৈরির জন্য অনেক ক্ষেত্রে তাজা বীজ ব্যবহার করাই ভালো।

তবে প্রতিটি প্রজাতির বৈশিষ্ট্য আলাদা। তাই নির্দিষ্ট গাছের বীজ সংরক্ষণের আগে তার উপযুক্ত পদ্ধতি জানা উচিত।

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading