রকেট ১ মিনিটে কত কিলোমিটার যায়—এটি জানতে হলে আগে বুঝতে হবে, সব রকেটের গতি এক নয়। রকেটের ধরন, ইঞ্জিন, ওজন এবং মিশনের ওপর গতি নির্ভর করে। আবার রকেট উৎক্ষেপণের শুরুতে তুলনামূলক ধীরে চলে। পরে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর গতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
মহাকাশে যাওয়ার সময় একটি রকেট কয়েক হাজার কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৌঁছাতে পারে। তবে কক্ষপথে প্রবেশের সময় গতি আরও অনেক বেশি হতে হয়।

রকেটের গতি কত?
রকেটের গতি সাধারণত কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড বা কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় হিসাব করা হয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো রকেট যদি ঘণ্টায় ২৮,৮০০ কিলোমিটার গতিতে চলে, তাহলে তার গতি মিনিটে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার।
অর্থাৎ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একটি মহাকাশযান এক মিনিটে কয়েকশ কিলোমিটার অতিক্রম করতে পারে।
তবে এটি রকেটের সব সময়ের গতি নয়। উৎক্ষেপণের শুরুতে গতি কম থাকে। পরে রকেট ক্রমে দ্রুত হতে থাকে।
রকেট উৎক্ষেপণের সময় কী হয়?
রকেট উৎক্ষেপণের মুহূর্তে এর গতি শূন্যের কাছাকাছি থাকে। ইঞ্জিন চালু হওয়ার পর রকেট ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে শুরু করে।
প্রথম পর্যায়ে রকেটকে নিজের ওজন এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। পাশাপাশি বায়ুর প্রতিরোধও থাকে।
তাই উৎক্ষেপণের প্রথম মিনিটে রকেট কয়েকশ কিলোমিটার যাওয়া সাধারণত সম্ভব নয়। গতি ধীরে ধীরে বাড়ে।
রকেটের গতি কীভাবে বাড়ে?
রকেটের ইঞ্জিন জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে প্রচুর থ্রাস্ট তৈরি করে। গরম গ্যাস খুব দ্রুত নিচের দিকে বের হয়ে যায়।
এর প্রতিক্রিয়ায় রকেট ওপরের দিকে এগিয়ে যায়। জ্বালানি পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে রকেটের ওজনও কমে।
ফলে নির্দিষ্ট সময়ের পর রকেট আরও দ্রুত গতি অর্জন করতে পারে। এই কারণে রকেটের গতি পুরো যাত্রায় একই থাকে না।
কক্ষপথে যেতে কত গতি দরকার?
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে একটি মহাকাশযানের গতি সাধারণত প্রায় ৭.৮ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড হতে পারে। এটি ঘণ্টায় প্রায় ২৮,০০০ কিলোমিটার।
এই গতি মিনিটে প্রায় ৪৬৮ কিলোমিটার।
তবে এটি রকেটের উৎক্ষেপণের গতি নয়। বরং কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানের আনুমানিক গতির উদাহরণ।
কক্ষপথে থাকার জন্য শুধু উচ্চতায় উঠলেই হয় না। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার জন্য যথেষ্ট অনুভূমিক গতিও প্রয়োজন।
তাহলে রকেট ১ মিনিটে কত কিলোমিটার যায়?
এর নির্দিষ্ট একটি উত্তর নেই। কারণ রকেটের গতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।
সহজভাবে বলা যায়, উৎক্ষেপণের প্রথম দিকে রকেটের গতি তুলনামূলক কম থাকে। পরে তা দ্রুত বাড়তে থাকে।
কক্ষপথে পৌঁছানোর কাছাকাছি সময়ে একটি মহাকাশযান প্রতি সেকেন্ডে কয়েক কিলোমিটার অতিক্রম করতে পারে।
যদি গতি ৭.৮ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড ধরা হয়, তাহলে এক মিনিটে দূরত্ব হবে:
৭.৮ × ৬০ = ৪৬৮ কিলোমিটার।
অর্থাৎ, কক্ষপথের গতির উদাহরণ হিসেবে প্রতি মিনিটে প্রায় ৪৬৮ কিলোমিটার বলা যায়।
সব রকেট কি একই গতিতে চলে?
না। বিভিন্ন রকেটের গতি আলাদা হতে পারে। কারণ প্রতিটি রকেটের নকশা ভিন্ন।
রকেটের ইঞ্জিনের শক্তি, মোট ভর এবং বহন করা পেলোডের ওজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া রকেট কোথায় যেতে চায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর কক্ষপথ, চাঁদ বা অন্য গ্রহে যাওয়ার জন্য ভিন্ন গতির প্রয়োজন হতে পারে।
মহাকাশযান কি সব সময় ইঞ্জিন চালায়?
না। মহাকাশযান সব সময় ইঞ্জিন চালিয়ে চলে না।
প্রয়োজনীয় গতি অর্জনের পর মহাকাশযান অনেক সময় ইঞ্জিন বন্ধ রেখেও চলতে পারে। তখন এটি নিজের গতির কারণে সামনে এগিয়ে যায়।
পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণও তার গতিপথকে প্রভাবিত করে। তাই মহাকাশে চলাচল অনেকটা সঠিক গতি ও কক্ষপথের হিসাবের ওপর নির্ভর করে।
রকেটের গতি এত বেশি কেন?
পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি খুব শক্তিশালী। তাই মহাকাশে পৌঁছানোর জন্য রকেটকে প্রচুর শক্তি ব্যবহার করতে হয়।
আবার পৃথিবীর কক্ষপথে থাকতে মহাকাশযানকে অনেক বেশি পার্শ্বীয় গতি অর্জন করতে হয়।
এই কারণেই মহাকাশ রকেটের গতি সাধারণ যানবাহনের তুলনায় অত্যন্ত বেশি।
একটি গাড়ি ঘণ্টায় কয়েকশ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। কিন্তু কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানের গতি ঘণ্টায় কয়েক দশ হাজার কিলোমিটার হতে পারে।
রকেটের গতি কীভাবে মাপা হয়?
রকেটের গতি বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা যায়। যেমন কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা এবং কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড।
মহাকাশবিজ্ঞানে কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড ব্যবহার করা বেশ সুবিধাজনক। কারণ মহাকাশযান খুব দ্রুত গতি পরিবর্তন করে।
উদাহরণ হিসেবে, ৮ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড মানে প্রতি সেকেন্ডে ৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা।
এক মিনিটে এটি দাঁড়ায় ৪৮০ কিলোমিটার।
রকেটের গতি সম্পর্কে সহজ হিসাব
ধরা যাক, একটি মহাকাশযান প্রতি সেকেন্ডে ৭.৮ কিলোমিটার যায়।
তাহলে:
- ১ সেকেন্ডে = ৭.৮ কিলোমিটার
- ১০ সেকেন্ডে = ৭৮ কিলোমিটার
- ৩০ সেকেন্ডে = ২৩৪ কিলোমিটার
- ১ মিনিটে = ৪৬৮ কিলোমিটার
- ১০ মিনিটে = ৪,৬৮০ কিলোমিটার
তবে এটি একটি সরল গাণিতিক হিসাব। বাস্তব রকেটের গতি পুরো যাত্রায় একই থাকে না।
শেষ কথা
রকেট ১ মিনিটে কত কিলোমিটার যায়—এর নির্দিষ্ট উত্তর রকেটের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। উৎক্ষেপণের শুরুতে গতি কম থাকে। পরে ইঞ্জিনের থ্রাস্টের কারণে গতি দ্রুত বাড়ে।
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানের গতি প্রায় ৭.৮ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড হতে পারে। সেই গতি ধরে হিসাব করলে এক মিনিটে প্রায় ৪৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করা সম্ভব।
তাই রকেটের গতি বোঝার সময় শুধু এক মিনিটের দূরত্ব নয়। বরং পুরো যাত্রায় গতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।









