মানুষ হাই তোলে কেন? জানুন হাই তোলার কারণ

মানুষ হাই তোলে কেন

ঘুম পেলে আমরা হাই তুলি। তবে মানুষ হাই তোলে কেন, এর উত্তর শুধু ঘুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্লান্তি, একঘেয়েমি এবং ঘুম থেকে ওঠার সময়ও হাই আসতে পারে। এমনকি অন্য কাউকে হাই তুলতে দেখলেও নিজের হাই চলে আসতে পারে।

মজার বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরাও এখনো হাই তোলার একটি নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। বরং এর পেছনে একাধিক শারীরিক ও স্নায়বিক কারণ থাকতে পারে।

হাই তোলার সময় শরীরে কী ঘটে?

হাই তোলার সময় আমরা মুখ বড় করে খুলি। একই সঙ্গে গভীরভাবে শ্বাস নিই।

এই প্রক্রিয়ায় মুখ, চোয়াল, গলা এবং বুকের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় হয়। গলার ভেতরের শ্বাসনালিও সাময়িকভাবে বেশি প্রসারিত হয়।

কয়েক সেকেন্ড পর শরীর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। পুরো ঘটনাটি দেখতে সহজ হলেও এর সঙ্গে বেশ কিছু পেশি ও স্নায়ুর সমন্বয় জড়িত।

ঘুম পেলে হাই আসে কেন?

ঘুম পাওয়া হাই তোলার সবচেয়ে পরিচিত কারণ। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে অনেকের বারবার হাই আসে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও একই ঘটনা দেখা যায়। তখন শরীর ধীরে ধীরে ঘুমের অবস্থা থেকে জেগে ওঠে।

অর্থাৎ হাই শুধু ঘুমানোর আগের ঘটনা নয়। ঘুম থেকে ওঠার সময়ও এটি স্বাভাবিকভাবে ঘটতে পারে।

ক্লান্ত হলে হাই বেশি আসে

সারাদিন কাজ করার পর শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে যায়।

এই সময় হাই তোলার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় একই কাজ করলে বিষয়টি বেশি বোঝা যায়।

তাই অফিসে দীর্ঘ মিটিং বা একটানা পড়াশোনার সময় হাই আসা অস্বাভাবিক নয়।

একঘেয়েমির সময়ও হাই আসে

একঘেয়েমির সঙ্গেও হাই তোলার সম্পর্ক রয়েছে। কোনো কাজ খুব দীর্ঘ এবং বিরক্তিকর হলে আমাদের সতর্কতা কমে যেতে পারে।

তখন শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাই আসতে পারে।

এ কারণেই একঘেয়ে ক্লাস, দীর্ঘ সভা কিংবা নিরস আলোচনায় অনেকের হাই আসে।

হাই তোলা কি অক্সিজেনের অভাবে হয়?

হাই তোলা নিয়ে একটি পুরোনো ধারণা হলো, শরীরে অক্সিজেন কমে গেলে আমরা হাই তুলি।

তবে এখন এটিকে হাই তোলার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা হিসেবে ধরা হয় না। গবেষণায় হাই তোলার সঙ্গে আরও অনেক বিষয়ের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তাই হাই উঠলেই শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছে, এমন ধারণা ঠিক নয়।

অন্যকে দেখলে নিজেরও হাই আসে কেন?

এটি হাই তোলার সবচেয়ে মজার বিষয়গুলোর একটি। আপনি হয়তো নিজেই এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।

পাশের কেউ হাই তুলল। কিছুক্ষণ পর দেখলেন, আপনারও হাই আসছে।

এটিকে বলা হয় সংক্রামক হাই তোলা। অন্যের হাই দেখা বা শোনার পর এমন প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

এমনকি হাই তোলার কথা পড়া বা ভাবার পরও কারও হাই আসতে পারে।

তবে কেন এমন হয়, তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।

হাই তোলা কি মস্তিষ্ক ঠান্ডা করে?

হাই তোলা নিয়ে আরেকটি বৈজ্ঞানিক ধারণা হলো মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ।

কিছু গবেষণায় হাই তোলার সঙ্গে মস্তিষ্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে এটিকে হাই তোলার নিশ্চিত কারণ বলা যায় না। কারণ হাই তোলার পেছনে একাধিক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে।

তাই এই বিষয়টি এখনো গবেষণার অংশ হয়ে আছে।

হাই তোলা কি সবসময় স্বাভাবিক?

মাঝেমধ্যে হাই তোলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাই কয়েকবার হাই উঠলে চিন্তার কারণ নেই।

তবে অস্বাভাবিকভাবে ঘন ঘন হাই উঠলে বিষয়টি খেয়াল করা ভালো। বিশেষ করে দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পেলে কারণটি খুঁজে দেখা দরকার।

অতিরিক্ত হাই কখনো ঘুমের ঘাটতি বা কিছু শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিছু ওষুধও হাই তোলার প্রবণতা বাড়াতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো।

হাই তোলা নিয়ে কয়েকটি মজার তথ্য

হাই তোলা শুধু মানুষের মধ্যেই দেখা যায় না। কিছু সামাজিক প্রাণীর মধ্যেও এমন আচরণ দেখা যায়।

আরেকটি মজার বিষয় হলো, হাই অনেক সময় সংক্রামক মনে হয়। একজনকে দেখেই অন্যজন হাই তুলতে পারেন।

এমনকি হাই তোলার কথা ভাবলেও কারও হাই চলে আসতে পারে।

আপনি যদি এই লেখাটি পড়তে পড়তে হাই তুলে থাকেন, তাহলে কিন্তু আপনি একা নন!

তাহলে মানুষ হাই তোলে কেন?

তাহলে প্রশ্নটির সহজ উত্তর কী?

মানুষ সাধারণত ঘুম, ক্লান্তি, একঘেয়েমি এবং জেগে ওঠার সময় হাই তোলে। অন্যের হাই দেখেও একই প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

তবে হাই তোলার পেছনে একটি মাত্র কারণ রয়েছে, এমনটা বিজ্ঞান এখনো বলে না। বরং এটি শরীর এবং মস্তিষ্কের জটিল স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।

সুতরাং হাই উঠলেই অস্বাভাবিক কিছু ভাবার দরকার নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি শরীরের স্বাভাবিক আচরণ।

শেষ কথা

হাই তোলা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের খুব পরিচিত একটি ঘটনা। তারপরও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক রহস্য।

ঘুম বা ক্লান্তির সময় হাই আসা স্বাভাবিক। আবার অন্যকে দেখেও হাই আসতে পারে।

তবে অস্বাভাবিকভাবে বেশি হাই উঠলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

তথ্যসূত্র:
এই লেখার চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য যাচাই করতে Cleveland Clinic-এর মেডিকেল রিভিউ করা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।Cleveland Clinic — Yawning

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading