জুতার দুর্গন্ধ দূর করার সহজ উপায়

জুতার দুর্গন্ধ খুবই বিরক্তিকর একটি সমস্যা। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় জুতা পরে থাকলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ঘাম, আর্দ্রতা এবং ব্যাকটেরিয়ার কারণে জুতায় দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

The current image has no alternative text. The file name is: জুতার-দুর্গন্ধ.png

জুতায় দুর্গন্ধ কেন হয়?

প্রথমত, পায়ের ঘাম জুতার ভেতরে জমে যায়। এরপর ভেজা পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে ধীরে ধীরে জুতায় неприятকর গন্ধ তৈরি হয়।

এছাড়া, একই জুতা প্রতিদিন পরলেও দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। কারণ জুতা শুকানোর পর্যাপ্ত সময় পায় না। তাই সম্ভব হলে কয়েক জোড়া জুতা পালা করে ব্যবহার করুন।

জুতা ভালোভাবে শুকিয়ে নিন

জুতার দুর্গন্ধ কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো জুতা শুকনো রাখা। ব্যবহারের পর জুতা খোলা জায়গায় রাখুন। সম্ভব হলে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখুন।

তবে দীর্ঘ সময় তীব্র রোদে জুতা রাখার আগে উপকরণ বিবেচনা করুন। কিছু জুতার উপাদান অতিরিক্ত তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জুতা ভিজে গেলে দ্রুত শুকানোর ব্যবস্থা করুন। কারণ ভেজা জুতা দুর্গন্ধ তৈরির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।

বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন

বেকিং সোডা জুতার ভেতরের আর্দ্রতা ও গন্ধ কমাতে সাহায্য করতে পারে। রাতে জুতার ভেতরে অল্প বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিন।

এরপর সকালে জুতা ভালোভাবে ঝেড়ে নিন। তবে জুতার উপাদানের সঙ্গে বেকিং সোডা ব্যবহার উপযোগী কিনা আগে নিশ্চিত হন।

এছাড়া, বেকিং সোডা সরাসরি পায়ে ব্যবহার না করাই ভালো। এটি মূলত জুতার দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য রাখা ভালো।

জুতার ইনসোল পরিষ্কার করুন

অনেক সময় জুতার ইনসোলেই ঘাম ও ময়লা বেশি জমে। তাই নিয়মিত ইনসোল পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

যদি ইনসোল আলাদা করা যায়, তাহলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষ্কার করুন। এরপর সম্পূর্ণ শুকিয়ে আবার জুতায় ব্যবহার করুন।

ইনসোল খুব পুরোনো হলে সেটি পরিবর্তন করাও কার্যকর হতে পারে। কারণ পুরোনো ইনসোলে ঘাম ও গন্ধ জমে থাকতে পারে।

মোজা পরিষ্কার রাখা জরুরি

শুধু জুতা পরিষ্কার করলেই দুর্গন্ধ পুরোপুরি কমবে না। কারণ অপরিষ্কার মোজাও গন্ধের বড় কারণ হতে পারে।

তাই প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা পরার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত ঘাম হলে দিনে মোজা পরিবর্তন করাও উপকারী হতে পারে।

সুতির বা শ্বাস নিতে পারে এমন কাপড়ের মোজা ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোন মোজা আপনার জন্য উপযুক্ত, সেটি ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

পা পরিষ্কার রাখুন

পায়ের পরিচ্ছন্নতাও জুতার দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সাবান ও পানি দিয়ে পা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

বিশেষ করে, পায়ের আঙুলের মাঝের অংশ পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। এরপর পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পা ভালোভাবে মুছে নিন।

পা অতিরিক্ত ঘামলে বিষয়টি লক্ষ্য করুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জুতা পালা করে ব্যবহার করুন

একই জুতা প্রতিদিন ব্যবহার করলে ভেতরের আর্দ্রতা জমে থাকতে পারে। তাই সম্ভব হলে জুতা পালা করে পরুন।

একদিন ব্যবহার করা জুতা পরের দিন বাতাসে রাখুন। এতে জুতা শুকানোর সময় পাবে।

এছাড়া, জুতা সংরক্ষণের জায়গাতেও বাতাস চলাচল থাকা ভালো। বন্ধ ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় জুতা রাখবেন না।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

জুতার দুর্গন্ধের পাশাপাশি পায়ে চুলকানি, খোসা ওঠা বা লালচে ভাব থাকলে সতর্ক হন। এসব লক্ষণ পায়ের ছত্রাকজনিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তাই সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে, ঘরোয়া যত্নে সমস্যা না কমলে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

শেষ কথা

জুতার দুর্গন্ধ সাধারণত ঘাম, আর্দ্রতা এবং অপরিচ্ছন্নতার কারণে বাড়তে পারে। তবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তাই জুতা শুকনো রাখুন এবং মোজা নিয়মিত পরিবর্তন করুন। পাশাপাশি, পা পরিষ্কার রাখুন এবং জুতা পালা করে ব্যবহার করুন।

এভাবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে জুতার দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading