কাঠের আসবাবপত্রের যত্ন নেওয়ার ১০ উপায়

বাড়ির কাঠের আসবাবপত্র অনেক বছর ব্যবহার করা যায়। তবে কাঠের আসবাবপত্র ভালো রাখতে নিয়মিত একটু যত্ন নেওয়া দরকার। টেবিল, চেয়ার, আলমারি কিংবা খাট যাই হোক, অবহেলা করলে কাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। আবার অতিরিক্ত পানি, ধুলো এবং আর্দ্রতাও কাঠের ক্ষতি করতে পারে।

অনেক পুরোনো কাঠের আসবাবও সঠিক যত্নে নতুনের মতো রাখা সম্ভব। এজন্য প্রতিদিন খুব বেশি সময় দেওয়ার দরকার নেই। বরং কয়েকটি সহজ অভ্যাস নিয়মিত করলেই আসবাব অনেকদিন ভালো থাকে।

The current image has no alternative text. The file name is: কাঠের-আসবাবপত্র.png

নিয়মিত ধুলো পরিষ্কার করুন

কাঠের আসবাবের ওপর প্রতিদিন ধুলো জমে। তাই নরম শুকনো কাপড় দিয়ে নিয়মিত ধুলো পরিষ্কার করুন।

তবে খুব রুক্ষ কাপড় ব্যবহার করবেন না। এতে কাঠের পালিশে ছোট ছোট দাগ পড়তে পারে।

বিশেষ করে নকশা করা আসবাবের কোণগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। কারণ এসব জায়গায় ধুলো বেশি জমে থাকে।

অতিরিক্ত পানি থেকে দূরে রাখুন

পানি কাঠের আসবাবের বড় শত্রু হতে পারে। তাই কাঠের টেবিল বা আলমারিতে পানি জমতে দেবেন না।

কোনো তরল পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। দেরি করলে পানি কাঠের ভেতরে ঢুকে দাগ তৈরি করতে পারে।

তাই গ্লাস বা পানির বোতলের নিচে কোস্টার ব্যবহার করা ভালো।

সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন

সারাদিন সরাসরি রোদ পড়লে কাঠের রং ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে পারে। পালিশও তার আগের উজ্জ্বলতা হারাতে পারে।

তাই সম্ভব হলে জানালার পাশে এমনভাবে আসবাব রাখুন, যাতে সরাসরি রোদ না পড়ে।

প্রয়োজনে পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘরের আসবাবও কিছুটা সুরক্ষিত থাকবে।

আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশ কাঠের জন্য ভালো নয়। এতে কাঠ ফুলে যেতে পারে বা আকারে পরিবর্তন আসতে পারে।

আবার খুব শুষ্ক পরিবেশেও কিছু কাঠে ফাটল দেখা দিতে পারে। তাই ঘরের পরিবেশ যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখুন।

বিশেষ করে বর্ষাকালে ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা ভালো।

গরম জিনিস সরাসরি রাখবেন না

কাঠের টেবিলের ওপর গরম হাঁড়ি বা গরম কাপ রাখবেন না। এতে কাঠের পালিশে সাদা বা কালচে দাগ পড়তে পারে।

তাই গরম জিনিস রাখার সময় অবশ্যই হিট-প্রুফ ম্যাট বা প্যাড ব্যবহার করুন।

এই ছোট অভ্যাসটি টেবিলের সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

ভারী জিনিস সাবধানে রাখুন

কাঠের আসবাব শক্ত হলেও অতিরিক্ত ওজন সবসময় সহ্য করতে পারে না। বিশেষ করে পুরোনো আলমারি বা তাকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার।

তাই একটি তাকের ওপর অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিস জমিয়ে রাখবেন না।

এছাড়া আসবাব সরানোর সময় টেনে না নিয়ে সম্ভব হলে তুলে সরান। এতে নিচের অংশের ক্ষতি কম হয়।

দাগ পড়লে দ্রুত পরিষ্কার করুন

কাঠের ওপর চা, কফি বা খাবার পড়ে গেলে দ্রুত পরিষ্কার করুন। দেরি হলে দাগ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

প্রথমে শুকনো বা সামান্য ভেজা নরম কাপড় ব্যবহার করুন। এরপর পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে জায়গাটি মুছে নিন।

তবে অজানা কোনো রাসায়নিক ক্লিনার সরাসরি কাঠে ব্যবহার করবেন না।

পালিশ করার সময় সতর্ক থাকুন

সময়ের সঙ্গে কাঠের আসবাবের পালিশ কিছুটা ম্লান হতে পারে। তখন উপযুক্ত কাঠের পালিশ ব্যবহার করা যায়।

তবে বেশি পালিশ করলেই আসবাব বেশি সুন্দর হবে, এমন নয়। অতিরিক্ত পালিশ করলে বরং কাঠের ওপর স্তর জমতে পারে।

তাই পণ্যের নির্দেশনা মেনে পরিমাণমতো পালিশ ব্যবহার করুন।

পোকামাকড়ের লক্ষণ দেখুন

কাঠের আসবাবে কখনো কখনো ঘুণ বা অন্যান্য পোকামাকড়ের সমস্যা হতে পারে। ছোট ছোট ছিদ্র বা কাঠের গুঁড়ো দেখা গেলে বিষয়টি খেয়াল করুন।

সমস্যা বেশি হলে নিজে নানা রাসায়নিক ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া ভালো।

শুরুতেই ব্যবস্থা নিলে কাঠের আসবাব বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।

আসবাবের অবস্থান মাঝে মাঝে পরিবর্তন করুন

একই জায়গায় অনেক বছর আসবাব রেখে দিলে কিছু অংশে বেশি চাপ পড়তে পারে। তাই সুযোগমতো আসবাবের অবস্থান সামান্য পরিবর্তন করতে পারেন।

তবে ভারী আসবাব সরানোর সময় সাহায্য নিন। এতে আসবাব এবং মেঝে দুটোই নিরাপদ থাকবে।

শেষ কথা

কাঠের আসবাবপত্র শুধু ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস নয়। অনেক সময় এগুলো পরিবারের স্মৃতি ও সৌন্দর্যের অংশ হয়ে যায়।

তাই নিয়মিত ধুলো পরিষ্কার করুন। পানি ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন।

পাশাপাশি সরাসরি রোদ এবং অতিরিক্ত গরম থেকেও আসবাবকে সুরক্ষিত রাখুন। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোই কাঠের আসবাব দীর্ঘদিন সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে।

যত্নের পাশাপাশি কাঠের আসবাব ব্যবহারের সময়ও একটু সচেতন থাকুন। তাহলেই পুরোনো আসবাবও বহু বছর ধরে ঘরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবে।

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading