মাটির নিচের প্রাচীন ফাঁদ
ছাদ থেকে ছোট-বড় পাথর খসে পড়তে শুরু করল। ফলে, সুড়ঙ্গের ভেতর ধুলোয় অন্ধকার হয়ে গেল।
“মামা, দেয়ালটা ভেঙে পড়ছে! আমাদের এখনই কিছু করতে হবে,” আদি চিৎকার করে বলল।
মামা টর্চের আলো লোহার দরজার দিকে ফেললেন। যেহেতু দরজার তালাটি বেশ অদ্ভুত ছিল, তাই তিনি দ্রুত ডায়েরিটা খুললেন। আসলে এটি একটি প্রাচীন কম্বিনেশন লক ছিল।
তাছাড়া, দেয়ালের খটখট শব্দটা আরও দ্রুত হতে লাগল। সম্ভবত, সুড়ঙ্গের মেঝেটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়বে। অতএব, আদির বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
“আদি, তামার পাতের নকশাটা ভালো করে দেখ! ওখানে কোনো সংখ্যা আছে কি?” মামা হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করলেন।
আদি টর্চের আলো তামার পাতটার ওপর ধরল। লিপিটার কোণায় তিনটি ছোট বিন্দু খোদাই করা ছিল। তদুপরি, বিন্দুর নিচে সুলতানি হরফে লেখা ছিল—’তিন, সাত, পাঁচ’।
“মামা! সংখ্যাগুলো হলো তিন, সাত এবং পাঁচ!” আদি জোরে বলল।
সুতরাং, মামা এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করলেন না। তিনি লোহার দরজার চাকাটি ধরে দ্রুত সংখ্যাগুলো মেলালেন। ফলশ্রুতিতে, একটি ভারী ধাতব শব্দ হয়ে দরজাটি খুলে গেল।
“ভেতরে চলো, আদি! জলদি!” মামা আদিকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে পাঠালেন।
তারা ভেতরে ঢুকতেই সুড়ঙ্গের পেছনের অংশটি ধসে পড়ল। তাছাড়া, লোহার দরজাটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেল। তবে, ভেতরের দৃশ্য দেখে তারা স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
ঘরের মাঝখানে একটি পাথরের বেদীর ওপর একটি কাঠের বাক্স রাখা ছিল। যদিও বাক্সটি পুরনো ছিল, তাও ওটার গায়ে কোনো ধুলো ছিল না। নিশ্চিতভাবেই, এটাই মূল রত্নভাণ্ডার।
মামা সাবধানে বাক্সের ঢাকনাটি খুললেন। ফলস্বরূপ, ভেতরে কিছু প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা এবং হীরের গয়না চকচক করে উঠল। কিন্তু, আদির চোখ গেল অন্য একটি জিনিসের দিকে।
রত্নগুলোর নিচে চামড়ার একটি জরাজীর্ণ থলে ছিল। আদি থলেটি খুলে ভেতরে একটি পুরনো মানচিত্র দেখতে পেল। মানচিত্রের ওপর প্রাচীন হরফে লেখা ছিল—’পুণ্ড্রবর্ধন’।
“মামা, এটি তো মহাস্থানগড়ের প্রাচীন মানচিত্র!” আদি উত্তেজিত গলায় বলল।
কিন্তু, ঠিক তখনই লোহার দরজার ওপাশ থেকে একটি বিকট শব্দ হলো। সম্ভবত, স্মাগলার চক্রটি সুড়ঙ্গের অন্য কোনো পথ দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে।
এখন আদি আর মামা কি এই বন্ধ ঘর থেকে বের হতে পারবে? নাকি তারা নতুন কোনো বিপদে পড়বে?
(জানতে হলে চোখ রাখুন ৫ম পর্বে!)









