বালিঝড়ের ফাঁদ [অধ্যায়: ৪]
“মরুভূমির বালিঝড় শুধু চারপাশের চেনা পথই বদলে দেয় না, অনেক সময় হাজার বছরের চাপা পড়া কোনো অন্ধকার রহস্যকেও উন্মুক্ত করে দেয়।”
হঠাৎ করেই মরুভূমির তপ্ত আকাশটা কেমন যেন কুচকুচে কালো হয়ে এল। দিগন্তের এক কোণ থেকে বিশাল এক ধুলোর প্রাচীর ঘূর্ণিপাক তুলে তীব্র গতিতে আরিয়ানের দিকেই এগিয়ে আসতে লাগল। চোখের পলকে চারপাশ আঁধারে ঢেকে শুরু হলো এক ভয়ঙ্কর, প্রলয়ঙ্করী বালিঝড়।
উন্মত্ত বাতাসের ঝাপটায় দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব। চোখ-মুখ স্কার্ফে শক্ত করে চেপে ধরে আরিয়ান বালির ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল। বাতাসের তীব্র গর্জনে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। চারপাশের উড়ন্ত বালির মাঝে শ্বাস নেওয়া প্রতি মুহূর্তে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে।
ধুলোর আড়ালে সেই শব্দ
ঠিক তখনই, ঝড়ের সেই কানফাটানো শব্দের মাঝেই আরিয়ানের কানে এল এক অদ্ভুত শব্দ—দূরে কোথাও ধাতব ঘণ্টার আওয়াজ বাজছে! ড্রিং… ড্রিং…!
উটের কাফেলা!
তবে কি এই নরককুণ্ডের মাঝে কোনো যাযাবর দলের আগমন ঘটেছে? সাহায্য চাওয়ার জন্য আরিয়ান মরিয়া হয়ে উঠে দাঁড়াল। কিন্তু চারদিকে ধুলো আর বালির এমন ঘন দেয়াল তৈরি হয়েছে যে, নিজের হাতটাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। চিৎকার করার চেষ্টা করতেই মুখের ভেতর ঢুকে গেল তপ্ত বালি।
কয়েক ঘণ্টা পর যখন ঝড়টা থামল, আরিয়ান উঠে দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখে শিউরে উঠল। চারপাশের চেনা ল্যান্ডস্কেপ পুরো বদলে গেছে। চেনা বালির ঢিবিগুলো উধাও, দিক চেনার কোনো উপায় নেই। পথের সব নিশানা মরুভূমি নিজের পেটে চালান করে দিয়েছে। আরিয়ান এখন সম্পূর্ণ দিকভ্রান্ত, এক চুলবুলানি ফাঁদে বন্দি!
হতাশ হয়ে পায়ের নিচের বালির দিকে তাকাতেই হঠাৎ আরিয়ানের চোখ আটকে গেল। ধু ধু ধূসর বালির মাঝে পড়ে আছে অদ্ভুত কিছু উজ্জ্বল নীল রঙের পাথর! নিখুঁত লাইনে সাজানো। তবে কি এটাই সেই হারিয়ে যাওয়া অলৌকিক হ্রদের গোপন পথ?
আজকের ক্যাপশন: “মরুভূমির ঝড় শুধু পথ বদলায় না, অনেক সময় গোপন রহস্যের দরজাও খুলে দেয়।”
আপনার মন্তব্য জানান: এই নীল পাথরগুলো কি আরিয়ানকে হ্রদে নিয়ে যাবে, নাকি নতুন কোনো বিপদে ফেলবে? কমেন্ট করুন!
অদ্ভুত পথের ডাক [অধ্যায়: ৫]
“সূর্য যখন রক্তিম আলোয় ডুবছে, তখন মরুভূমির শুনসান নীরবতা ফিসফিসিয়ে এক প্রাচীন সতর্কবার্তা শুনিয়ে যাচ্ছে।”
সেই রহস্যময় নীল পাথরের লাইন ধরে ধীর পায়ে হাঁটতে লাগল আরিয়ান। মরুভূমির তীব্র উত্তাপ কমে এসেছে, কিন্তু তার বদলে চারপাশের পরিবেশকে গ্রাস করেছে এক গা ছমছমে ভাব। হাঁটতে হাঁটতে আরিয়ান এসে পৌঁছাল এক জনমানবহীন, প্রাচীন ইটের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের সামনে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি হয়তো বালির নিচে চাপা পড়ে ছিল, আজকের ঝড় একে বের করে এনেছে।
আরিয়ান তার টর্চের আলো ফেলল ভাঙা ইটের একটা দেওয়ালে। ধুলোমাখা সেই প্রাচীন দেওয়ালে অদ্ভুত এক ভাষায় কিছু একটা খোদাই করা রয়েছে। ভালো করে লক্ষ্য করতেই আরিয়ানের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সেখানে বাংলায় স্পষ্ট করে লেখা—“পানি কথা বলে পূর্ণিমার রাতে।”
এক অদৃশ্য টুপটাপ শব্দঃ
তখন পশ্চিমে সূর্য ডুবছে, আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে রক্তের মতো লালচে আভা। চারপাশের চিপচিপে নীরবতা এতটাই প্রগাঢ় যে, নিজের হৃদস্পন্দন নিজেই স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে আরিয়ান। ঠিক তখনই, সেই শুনসান নীরবতা ভেদ করে আরিয়ানের কানে এল এক অবিশ্বাস্য শব্দ।
খুব দূর থেকে ভেসে আসছে পানির অস্পষ্ট টুপ… টুপ… টুপটাপ শব্দ!
কিন্তু এই অনন্ত বালির সমুদ্রে পানি আসবে কোথা থেকে? চারপাশে তাকালে তো শুধু রুক্ষ বালি ছাড়া আর কিচ্ছু দেখা যায় না। আরিয়ান বুঝতে পারল, মাওলানার গল্পটা মিথ্যে ছিল না। আজ রাতেই সেই কাঙ্ক্ষিত পূর্ণিমা, আর আজ রাতেই এই আদিম রহস্যের শেষ দেখার সময়। উত্তেজনায় আর ভীতিতে আরিয়ানের সমস্ত শরীর তখন কাঁপছিল।
আজকের ক্যাপশন:
“পূর্ণিমা আসছে… আর আদিম রহস্য আরও কাছে টানছে। উত্তেজনায় টানটান এক অভিযাত্রী।”
পরের পর্বে কী হতে যাচ্ছে?
রাতের অন্ধকারে এই ধ্বংসস্তূপে আরিয়ান কী দেখতে পাবে? আপনার ধারণা শেয়ার করুন!
চাঁদের আলোয় প্রথম দেখা [অধ্যায়: ৬]
“টলটলে নীল জলে আকাশের তারাগুলো যখন ঝিকিমিকি খেলছে, ঠিক তখনই অন্ধকারের ওপার থেকে জেগে উঠল এক জোড়া অচেনা চোখ।”
অবশেষে মরুভূমির আকাশে উদিত হলো এক বিশাল, মায়াবী পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদটা ঠিক মাথার ওপর আসতেই আরিয়ান অনুভব করল, বাতাসে ভেসে আসা সেই ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধটা এখন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
হঠাৎ করেই সেই ভাঙা বিল্ডিংয়ের ধ্বংসস্তূপের পেছনের দিক থেকে একটা অলৌকিক কাণ্ড ঘটল। চারপাশের অন্ধকার ভেদ করে এক মৃদু, নীলাভ আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। যেন মাটির নিচ থেকে কোনো জাদুকরী শক্তি জেগে উঠছে।
আরিয়ান মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধীর পায়ে এগোল। বুকের ভেতর হৃদস্পন্দনের গতি এখন প্রতি মিনিটে একশো ছাড়িয়ে গেছে। ভাঙা দেয়ালের শেষ সীমানাটা পার হতেই আরিয়ানের সামনে উদ্ভাসিত হলো এক অবিশ্বাস্য, অলৌকিক দৃশ্য!
হ্রদের পাড়ে একা নয়!
সামনে এক বিশাল, জাদুকরী হ্রদ। মরুভূমির বুকে এমন টলটলে নীল জলের অস্তিত্ব সশরীরে না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব। আকাশের কোটি কোটি তারা যেন সেই নীল জলের বুকে নেমে এসে ঝিকিমিকি খেলা খেলছে। সেই পানির মায়াবী আলো আর তারার রূপালি ঝিলমিল যেন আরিয়ানকে সম্মোহিত করে ফেলেছে।
সে নিজের তৃষ্ণার কথা ভুলে গেল, ভুলে গেল বিপদের ভয়। ধীর পায়ে পানির একদম কিনারায় গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল আরিয়ান। কিন্তু ঠিক তখনই, পানি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, তার কানের ঠিক পেছনে একটা শুকনো বালির ওপর পায়ের শব্দ হলো… খচখচ!
কেউ একজন ঠিক তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। এই নির্জন মরুভূমির বুকে কেউ তাকে প্রথম থেকে অনুসরণ করছে!
আরিয়ান মেরুদণ্ড সোজা করে ঝটকা দিয়ে পেছনে ঘুরে দাঁড়াল। আর সাথে সাথেই তীব্র আতঙ্কে তার চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। একী দেখছে সে…!
আজকের ক্যাপশন: “হ্রদ পেয়েছি… কিন্তু এই অভিশপ্ত রাতে আমি এখানে একাই নই!”
প্রিয় পাঠক, গল্পের এই ক্লাইম্যাক্স আপনার কেমন লাগলো?
আরিয়ানের পেছনে এই মুহূর্তে কে দাঁড়িয়ে আছে? গ্রামের কোনো শত্রু, নাকি মরুভূমির কোনো অলৌকিক সত্তা?
গল্পের পরবর্তী রোমাঞ্চকর পর্ব (পর্ব ৭) মিস করতে না চাইলে এখনই আমাদের ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং আপনার অনুমান নিচের কমেন্ট বক্সে লিখে জানান!









