মরুভূমির কাফেলা থেকে আমাজনের হাতছানি
নীল হ্রদের সেই জাদুকরি মায়া কাটিয়ে আরিয়ান আর ইরা এবার রওনা হলো মামাবাড়ির উদ্দেশ্যে। চারদিকে আবার সেই চেনা অন্তহীন মরুভূমি। বালির ছোট ছোট ঢেউগুলোকে দূর থেকে সোনালী এক সমুদ্রের মতো দেখাচ্ছিল।
মরুভূমির কাফেলা ও উটের পিঠে প্রথম চড়া
ঠিক দুপুরবেলা তাদের সামনে দেখা মিলল একদল যাযাবর ব্যবসায়ীর। উটের পিঠে বিশাল সব বোঁচকা নিয়ে তারা যাচ্ছিল দূর গ্রামের হাটে। ব্যবসায়ীদের দলপ্রধান আরিয়ান আর ইরাকে দেখে উট থামিয়ে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানালেন। তিনি হেসে বললেন, এই দুর্গম মরুভূমিতে উটের পিঠে চড়া ছাড়া আর কোনো গতি নেই।
ইরা তো মহা খুশি। যেহেতু এটি তার প্রথম অভিজ্ঞতা, তাই সে হেসেই খুন। আরিয়ানও বেশ একটা রাজকীয় ভঙ্গি নিয়ে উটে বসল। ধীরে ধীরে মরুভূমির আকাশে সূর্য ডুবতে লাগল। ফলে সোনালী বালি যেন লালচে আবির মেখে নিল।
[ মরুভূমির তপ্ত বালিপথ ] ➔ [ যাযাবর কাফেলার সাথে সাক্ষাৎ ] ➔ [ উটের পিঠে চড়ে যাত্রা ] ➔ [ তারার নিচে নৈশভোজ ]
তারায় ভরা আকাশের নিচে এক অপূর্ব রাত
সন্ধ্যা নামতেই কাফেলা মরুভূমির মাঝখানে তাবু ফেলল। যাযাবর ব্যবসায়ীরা চটপট আগুন জ্বালিয়ে রান্নার তোড়জোড় শুরু করল। একটু পরেই বাতাসে ভেসে এলো গরম খিচুড়ি আর দুম্বার মাংসের চমৎকার সুবাস।
আরিয়ানের কৌতূহল দেখে এক প্রবীণ ব্যবসায়ী হাসিমুখে বললেন, এটাই আমাদের জীবন। রাতে এই আকাশের তারার নিচে ঘুমাই। অতএব, তারায় ভরা খোলা আকাশের নিচে সবাই একসাথে খেতে বসল।
খেতে খেতে ব্যবসায়ীরা দূর-দূরান্তের রূপকথা আর জিনের গল্প শোনাতে লাগল। ইরা মুগ্ধ হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, এ যেন সম্পূর্ণ অন্যরকম একটা পৃথিবী। খাওয়া শেষে সবাই বালির নরম বিছানায় শুয়ে পড়ল। মরুভূমির হালকা বাতাসে মায়াবী সুর তৈরি হলো। আরিয়ান ও ইরা এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
মামার গ্রামে প্রত্যাবর্তন ও বীরোচিত সংবর্ধনা
দীর্ঘ যাত্রা শেষে অবশেষে দেখা মিলল সবুজ খেজুর গাছের সারি। আরিয়ান ও ইরার চোখ আনন্দে জ্বলজ্বল করে উঠল। আরিয়ান চেঁচিয়ে বলল, ইরা! আমরা মামাবাড়ি এসে গেছি!
ব্যবসায়ীরা তাদের উট থেকে নামিয়ে দিয়ে বিদায় জানাল। গ্রামের সীমানায় পা রাখতেই মানুষজন ভিড় করে এল। সবার চোখে ছিল প্রচণ্ড কৌতূহল। গ্রামের লোকজন ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, তোমরাই কি নীল হ্রদের রহস্য উন্মোচন করেছ?
ইরা লাজুকভাবে হাসল। অন্যদিকে আরিয়ান গর্বভরে চারপাশে তাকিয়ে বলল, হ্যাঁ, আমরাই। ঠিক তখনই মামা ছুটে এসে দুজনকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। মামাবাড়ির উঠোনটা মুহূর্তের মধ্যে আনন্দ আর কোলাহলে ভরে উঠল।
নতুন পরিকল্পনা: আমাজনের পথে পরবর্তী অভিযান
পরদিন রাতে মামাবাড়ির মস্ত বড় উঠোনে মাদুর পেতে দুজনে বসল। শহরের আকাশে তো ধোঁয়া আর ধুলো, তাই তারা দেখা যায় না। কিন্তু এখানকার আকাশে লাখো-কোটি তারা মিটমিট করে জ্বলছিল।
┌──────────────────────────────────┐
│ পরবর্তী গন্তব্য: আমাজন রেইন ফরেস্ট │
└─────────────────┬────────────────┘
│
┌────────────────────────┴────────────────────────┐
▼ ▼
[ প্রাচীন অরণ্যের গভীর অন্ধকার ] [ অজানা আদিবাসী ও নতুন রহস্য ]
আরিয়ান আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল, মরুভূমির রহস্য তো শেষ হলো। এবার কেমন হয় যদি আমরা আমাজন রেইন ফরেস্টে যাই?
ইরা চোখ বড় বড় করে প্রায় লাফিয়ে উঠল। সে বলল, দারুণ আইডিয়া, আরিয়ান! আমিও ঠিক এটাই ভাবছিলাম। তাহলে আমাদের পরবর্তী অভিযান হোক অরণ্যের গভীরে।
আকাশের লক্ষ কোটি তারা যেন তাদের এই নতুন স্বপ্নকে সাক্ষী রেখে আরও উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠল। এভাবেই শুরু হলো তাদের অজানা অরণ্যের পথে নতুন রহস্যের খোঁজ।









