কেরোসিন তেলের গন্ধ আর লণ্ঠনের মৃদু আলোয় কাটা শৈশব

“বাইরে তখন নিঝুম রাত, জোনাকিদের উৎসব চলছে। কিন্তু গ্রামের মাটির দেয়াল ঘেরা ওই ছোট্ট ঘরটাতে তখনো সলতে জ্বলছে এক পুরনো লণ্ঠনের।
নমিতা, ক্লাস ফাইভের ছাত্রী। এই লণ্ঠনের মৃদু হলুদ আলোটাই ওর কাছে আজ বড় ভালোবাসার জিনিস। বাবা অনেক কষ্টে বাজার থেকে কেরোসিন তেলটুকু জোগাড় করে এনেছেন, যেন ওর পড়ালেখা না থেমে থাকে। নমিতার চোখে আজ স্বপ্নের ঝিলিক। ও পড়ছে। গভীর মনোযোগে। প্রতিটি পাতায় বোনা শব্দগুলো ও নিজের জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখছে।
সেদিন বিকেলে দাদুর পুরনো ট্রাঙ্ক থেকে দেশভাগের সময়কার এক ঝাপসা পারিবারিক ছবি পেয়েছিল ও। আজ, পড়া শেষ করে, নমিতার মনে হলো— ওই ছবিটার মাঝেও কি এমন কোনো মেয়ে লণ্ঠনের আলোয় স্বপ্ন বুনত?
স্বপ্নগুলো হয়তো কখনো পূর্ণ হয়, কখনো হারিয়ে যায়। কিন্তু লণ্ঠনের এই আলো এখনো স্বপ্ন দেখা শেখায়। লণ্ঠনটা জ্বলেই চলুক, নমিতার স্বপ্নগুলোও সজীব থাক।”




