মশলাদার মাছ ভাজা: পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দেশি স্বাদ

   মশলাদার মাছ ভাজা 

  বাংলার রান্নাঘরে মাছের গুরুত্ব সবসময়ই আলাদা। তবে সাধারণ মাছ ভাজার চেয়ে একটু ভিন্ন স্বাদ চাইলে এই মশলাদার মাছ ভাজা হতে পারে দারুণ একটি পদ। ডিম ও মসলার কোটিং মাছকে করে তোলে মচমচে। অন্যদিকে, সরিষার তেলে ভাজা পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ যোগ করে বাড়তি ঘ্রাণ।

 খুব সহজ উপকরণে ঘরেই তৈরি করতে পারেন এই সুস্বাদু দেশি রেসিপি।

উপকরণ
মাছ (রুই, কাতলা বা পছন্দের মাছ) – ৫-৬ টুকরা
ডিম – ১টি
হলুদ গুঁড়া – ১ চা চামচ
লাল মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ
ধনিয়া গুঁড়া – ১ চা চামচ
জিরা গুঁড়া – ½ চা চামচ
আদা বাটা – ১ চা চামচ
লবণ – স্বাদমতো
সরিষার তেল বা ভাজার তেল – পরিমাণমতো
পেঁয়াজ কুচি – ১টি মাঝারি আকারের
কাঁচা মরিচ – ৩-৪টি


প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে মাছের টুকরাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।

এরপর একটি বাটিতে ডিম ফেটে নিন। তারপর হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরা, আদা বাটা ও লবণ মিশিয়ে নিন।

এবার মাছের টুকরাগুলো মশলার মিশ্রণে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। ফলে মশলা মাছের ভেতরে ভালোভাবে ঢুকে যাবে।

অন্যদিকে, একটি কড়াইয়ে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে মাছের টুকরাগুলো আস্তে করে ছেড়ে দিন।

মাঝারি আঁচে দুই পাশ সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। পাশাপাশি খেয়াল রাখুন যেন বাইরের অংশ মচমচে হয়।

ভাজা হয়ে গেলে মাছ তুলে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিন।

পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ ভাজার প্রণালি

মাছ ভাজার পর কড়াইয়ে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ সরিষার তেল রেখে দিন।

তেল হালকা গরম হলে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ কুচি যোগ করুন।

তারপর মাঝারি আঁচে ২ থেকে ৩ মিনিট নাড়তে থাকুন। ফলে পেঁয়াজ নরম হবে এবং হালকা সোনালি রং ধারণ করবে।

এরপর ফালি করা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন।

আরও ১ থেকে ২ মিনিট ভাজুন। এতে কাঁচা মরিচের ঝাঁঝ ও সুগন্ধ তেলের সঙ্গে মিশে যাবে।

সবশেষে ভাজা মাছগুলো কড়াইয়ে দিন। তারপর আলতোভাবে মিশিয়ে এক মিনিট নেড়ে চুলা বন্ধ করে দিন।

এভাবেই তৈরি হয়ে গেল পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও সরিষার তেলের ঘ্রাণে ভরপুর দেশি স্বাদের মশলাদার মাছ ভাজা।

রান্নার টিপস
পরিবেশনের আগে সামান্য কাঁচা সরিষার তেল ছড়িয়ে দিন।
রুই বা কাতলা মাছ এই রেসিপিতে বেশি সুস্বাদু হয়।
মাছ ভাজার সময় আঁচ মাঝারি রাখুন।
অতিরিক্ত ভাজবেন না। তাহলে মাছ শক্ত হয়ে যেতে পারে।

পরিবেশন

গরম ভাতের সঙ্গে এই মাছ ভাজা অসাধারণ লাগবে। এছাড়া ডাল, সালাদ ও লেবুর সঙ্গেও পরিবেশন করা যায়।

ডিম ও মসলার কোটিংয়ের কারণে মাছের বাইরের অংশ থাকে মচমচে, কড়কড়ে। অন্যদিকে, ভেতরের অংশ থাকে নরম ও রসালো। তাই পরিবারের দুপুরের খাবার কিংবা বিশেষ দিনের মেনুতেও এই পদটি সহজেই জায়গা করে নিতে পারে।

শেষকথা

মাছ ভাজার পর আলাদা করে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ সরিষার তেলে হালকা ভেজে মাছের সঙ্গে মিশিয়ে দিলেই রেসিপিটি সম্পূর্ণ হয়। এই ছোট্ট কৌশলই সাধারণ মাছ ভাজাকে অন্য মাত্রা দেয়। তাই সুযোগ পেলে একবার অবশ্যই ঘরে তৈরি করে দেখুন।

1 thought on “মশলাদার মাছ ভাজা: পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দেশি স্বাদ”

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading