রহস্য সন্ধানী আদি#১: পানাম নগরের প্রাচীন তাম্রলিপি
দুপুরের কড়া রোদটা পানাম নগরের লাল ইটের ওপর পড়েছে। ফলে, চারপাশটা কেমন যেন ভূতুড়ে দেখাচ্ছিল।
১৫ বছর বয়সী আদি ক্যামেরার লেন্সটা চোখের সামনে ধরল। যেহেতু চারপাশটা জরাজীর্ণ ছিল, তাই সে সাবধানে পা ফেলছিল। ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা খসখস শব্দ হলো।
“আদি! এদিকে আয়! জলদি!”
কণ্ঠটা আদির খামখেয়ালী মামা ড. আশরাফের। মূলত, তিনি একজন প্রত্নতাত্ত্বিক। সুতরাং, প্রাচীন জিনিস খোঁজা তার নেশা। এবার তারা সোনারগাঁওয়ে সরকারি খননকাজে এসেছেন।
আদি প্রায় দৌড়ে ভাঙা দেয়ালটার দিকে গেল। সেখানে মাটির নিচে ছোট একটা গর্ত খোঁড়া হয়েছে। তাছাড়া, মামার দুই হাত কাদায় মাখামাখি ছিল।
“কী পেয়েছেন মামা? কোনো মুদ্রা?” আদি জিজ্ঞেস করল।
“মুদ্রার চেয়েও দামি কিছু, আদি,” মামা ফিসফিস করে বললেন।
এরপর, তিনি ব্রাশ দিয়ে মাটির দলাটা পরিষ্কার করলেন। ফলস্বরূপ, একটি প্রাচীন তামার পাত বেরিয়ে এল। লিপিটার ধরণ দেখে বোঝা গেল এটি সুলতানি আমলের।
তদুপরি, রোদ লেগে তামার পাতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ঠিক তখনই আদি অনুভব করল, কেউ একজন তাদের লক্ষ্য করছে। অতএব, সে ঝট করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল।
শিরীষ গাছের আড়ালে একজন লম্বা লোক দাঁড়িয়ে ছিল। লোকটার চোখে কালো চশমা ছিল। অন্য দিকে, তার ডান হাতে একটা শকুনের ট্যাটু আঁকা ছিল।
লোকটা আদিকে দেখেই দ্রুত ধ্বংসাবশেষের আড়ালে হারিয়ে গেল। ফলশ্রুতিতে, আদির মনে একটা গভীর খটকা তৈরি হলো। সে মামাকে লোকটার কথা জানাল।
কিন্তু, মামা তখন তাম্রলিপির ধাঁধাটি পড়তে মগ্ন ছিলেন। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, “এখানে একটি গুপ্তধনের মানচিত্রের প্রথম অংশ রয়েছে!”
“গুপ্তধন?!” আদির চোখ কপালে উঠল।
“হ্যাঁ। এখানে লেখা—যেখানে সূর্য ডোবে না কিন্তু ছায়া দীর্ঘ হয়…”
মামা বাক্যটা শেষ করার আগেই হঠাৎ একটা তীব্র গোঙানির শব্দ হলো। তৎক্ষণাৎ, পাশের একজন স্থানীয় শ্রমিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। যেহেতু তার গলায় একটি বিষাক্ত তীর লেগেছিল।
একই সাথে, চারপাশের ঝোপঝাড় থেকে খসখস শব্দ বেড়ে গেল। তাছাড়া, সামনের অন্ধকার কোণ থেকে দুজন কালো পোশাক পরা লোক পিস্তল উঁচিয়ে এগিয়ে এল।
এখন আদি আর তার মামা কীভাবে বাঁচবে? অন্যদিকে, তারা কি পারবে এই প্রাচীন ধাঁধার রহস্য ভেদ করতে?
(জানতে হলে চোখ রাখুন ২য় পর্বে!)









