ঢাকার কাকগুলো কোথায় গেল?—একটি মানবিক গল্প
স্মৃতিতে ভেসে ওঠে—এক সময় ঢাকার সকাল মানেই ছিল কাকের ডাক। রাস্তার মোড়ে, গাছের ডালে, বাজারের পাশে—সবখানেই ছিল ওদের উপস্থিতি। ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে কিংবা বিকেলে পার্কে হাঁটতে গিয়ে শত শত কাকের কোলাহল ছিল খুব চেনা দৃশ্য। এখন আর সেই কোলাহল নেই। ঢাকার বহু এলাকায় আজকাল কাক দেখাই কঠিন। শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য শহরেও একই অবস্থা। তাই হয়তো আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে: ঢাকার কাকগুলো সব কোথায় গেল?
কাক—শুধু পাখি নয়, পরিবেশের সহযোগী
কাককে আমরা অনেকেই সাধারণ পাখি মনে করি। কিন্তু প্রকৃতির জন্য তারা অনেক বড় বন্ধু। মৃত প্রাণী, উচ্ছিষ্ট খাবার আর নানান জৈব বর্জ্য খেয়ে পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে কাক। খাদ্যচক্রের ভারসাম্য রক্ষায়ও ওদের অবদান কম নয়।
কেন কমে যাচ্ছে কাক?
নগরায়ণের ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গাছ-গাছালি। কংক্রিটের জঙ্গলে কাকদের জন্য বাসা বাঁধার জায়গা আর আগের মতো নেই।
খাদ্যেও এসেছে পরিবর্তন। শহরের বর্জ্য আজকাল নানা ধরনের প্লাস্টিক ও রাসায়নিকে ভরা। কাকের খাবারের উৎস কমে গেছে।
দূষণের করাল ছায়া। বাতাস, শব্দ, রাসায়নিক—সবই কাকের স্বাভাবিক জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে বিতর্ক আছে। যদিও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পর্যাপ্ত নয়, তবুও কিছুটা উদ্বেগ থেকেই যায়।
এর প্রভাব পড়ছে আমাদের পরিবেশে
কাক কমে যাওয়ার অর্থ শহরের প্রাকৃতিক বর্জ্য পরিষ্কার হওয়ার প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়া। এতে নানা রকম রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি এটি আমাদের জীববৈচিত্র্য সংকটেরও ইঙ্গিত দেয়।
আমরা কী করতে পারি?
পুরোনো দেশীয় গাছ সংরক্ষণ ও নতুন গাছ লাগাতে হবে।
প্লাস্টিক ও বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।
নগর সবুজায়নের উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
পাখি ও নগরের প্রাণীদের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন করতে হবে।শেষকথা
আরও গবেষণা করতে হবে কাকসহ অন্যান্য নগর বন্যপ্রাণীর ওপর।
শেষকথা
“ঢাকার কাকগুলো কোথায় গেল?”—এ প্রশ্ন আসলে আমাদের নগরের, আমাদের পরিবেশের পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। কাককে বাঁচানো মানে শুধু একটি পাখিকে বাঁচানো নয়, বরং আমাদের শহরকে, আমাদের ভবিষ্যতকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তোলা।




