ঐতিহ্যের সেই চেনা ছন্দ
একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি পাড়ায় ঘানির ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ শোনা যেত। একটি বা দুটি গরু একটি লম্বা কাঠের দণ্ডের সাথে জুড়ে দেওয়া হতো। গরুটি নিরন্তর বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকতো, আর তার সাথে ঘুরতো কাঠের বিশাল এক মুষল। এই চাপের ফলে সরিষা থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়তো সোনালী রঙের খাঁটি তেল।
কেন এই পদ্ধতিটি সেরা ছিল?
আজকের আধুনিক মেশিনে উচ্চ তাপমাত্রায় তেল নিষ্কাশন করা হয়, যার ফলে তেলের অনেক প্রাকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু গরুর টানা ঘানিতে তেল বের হতো ধীরগতিতে, যাকে আমরা বর্তমানে ‘কোল্ড প্রেসড’ (Cold Pressed) অয়েল বলি। এতে তেলের পুষ্টিগুণ, ভিটামিন ই এবং প্রাকৃতিক ঝাঁঝ অটুট থাকতো।
বিলুপ্তির পথে এক শিল্প
বিদ্যুৎ আর যন্ত্রের দাপটে এই আদি পদ্ধতিটি আজ বিলুপ্তির পথে। এখন আর সেই ঘানি টানার গরুর চোখের বাঁধন দেখা যায় না, শোনা যায় না কলুর সেই হাঁকডাক। তবুও কিছু কিছু প্রত্যন্ত গ্রামে আজও এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছেন অল্প কিছু মানুষ, যা আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
উপসংহার
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সত্য, কিন্তু ঘানি ভাঙা সেই তেলের স্বাদ আর ঘ্রাণ আজও আমাদের নস্টালজিক করে তোলে। কৃত্রিমতার এই যুগে খাঁটি জিনিসের কদর বুঝতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে এই হারানো ঐতিহ্যের দিকেই।
আপনার শৈশবে কি এমন ঘানি ভাঙার দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়েছে? আমাদের জানান কমেন্ট বক্সে!





