
রহস্য সন্ধানী আদি এবার মহাস্থানগড়ের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষে এক চরম বিপদের মুখোমুখি।
স্মাগলারদের সর্দার যখনই হিংস্রভাবে ধেয়ে আসল, আদি আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করল না।
হাত বাড়িয়ে সে মাটি থেকে একটা ভারী, প্রাচীন ইটের টুকরো তুলে নিল। পরক্ষণেই, সে শরীরের সমস্ত জোর খাটিয়ে সেটা ছুঁড়ে মারল সর্দারের পা লক্ষ্য করে।
ঠাস!
ইটের টুকরোটা সরাসরি গিয়ে লাগল সর্দারের হাঁটুতে। ফলে, সে ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে ভারসাম্য হারিয়ে ধপাস করে মাটিতে আছাড় খেল।
“মামা, কোড বেলনটা নিন! দৌড়ান!” আদি চিৎকার করে উঠল।
মামা এক ঝটকায় তোরণের খাঁজ থেকে ব্রোঞ্জের কোড বেলনটি তুলে নিলেন। তদুপরি, কোনোদিকে না তাকিয়ে ওটা জ্যাকেটের পকেটে পুরেই আদির পেছনে দৌড় দিলেন।
পেছনে বাকি দুজন স্মাগলার রাগে গর্জে উঠে ওদের তাড়া করল। কিন্তু, আদি আর মামা মহাস্থানগড়ের উঁচু-নিচু প্রাচীন মাটির ঢিবির ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে ছুটতে লাগলেন।
যেহেতু মামা এই এলাকার প্রত্নতাত্ত্বিক মানচিত্র ভালো করে চিনতেন, তাই তিনি সোজা চলে গেলেন দুর্গের পশ্চিম পাশের এক পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষের দিকে।
“মামা, পেছনে ওরা চলে এসেছে! আমরা ঠিক কোথায় যাচ্ছি?” আদি দৌড়াতে দৌড়াতে জিজ্ঞেস করল।
“সামনে সেন আমলের একটা পরিত্যক্ত পাতকুয়ো আছে, আদি,” মামা দৌড়াতে দৌড়াতেই উত্তর দিলেন। “অতএব, ওটার ভেতরেই আমাদের দ্রুত আত্মগোপন করতে হবে।”
কুয়োর কাছে পৌঁছাতেই দেখা গেল ওটার মুখটা লতাপাতায় ঢেকে আছে। তবে, তারা কোনো ইতস্তত না করে সাবধানে কুয়োর ভেতরে নেমে গেলেন।
ভাগ্যক্রমে, কুয়োর ভেতরটা ছিল একদম শুকনো। বরঞ্চ, নিচের দিকে একটি প্রাচীন শুকনো সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা ছিল। তারা সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে নিঃশ্বাস চেপে বসে রইলেন।
কয়েক মুহূর্ত পরেই ওপর থেকে স্মাগলারদের পায়ের শব্দ পাওয়া গেল। অবশেষে, লোকগুলো কুয়োর পাশ দিয়ে দৌড়ে অন্যদিকে চলে গেল। ফলে, আদি আর মামা আপাতত রক্ষা পেলেন।
সুড়ঙ্গের আঁধার কোণে বসে মামা পকেট থেকে ব্রোঞ্জের কোড বেলনটি বের করলেন। তারপর, আদি তার টর্চের আলোটা ওটার ওপর ফেলল।
বেলনটি ভারী ব্রোঞ্জের তৈরি। অধিকন্তু, ওটার গায়ে চারটি ঘূর্ণায়মান চাকা বসানো ছিল। প্রতিটি চাকার ওপর প্রাচীন ব্রাহ্মী হরফে কিছু প্রতীক খোদাই করা।
“মামা, এটি তো একটি প্রাচীন সিক্রেট লক!” আদি বিস্ময়ে বলল। “সুতরাং, এই কোড না মেলালে বেলনটি খুলবে না।”
মামা পকেট থেকে সেই চামড়ার প্রাচীন মানচিত্রটি বের করলেন। “মানচিত্রের পেছনে একটি সংস্কৃত শ্লোক লেখা আছে আদি। যেমন—পদ্ম, গর্জন, খড়্গ এবং সূর্য।”
আদি টর্চের আলো ফেলে চাকার প্রতীকগুলো মেলাতে লাগল। প্রথম চাকায় ‘পদ্ম ফুল’, দ্বিতীয়টিতে ‘মেঘের গর্জন’, তৃতীয়টিতে ‘ধারালো খড়্গ’ এবং চতুর্থটিতে ‘সূর্যের প্রতীক’ সে সেট করল।
ক্লিক!
একটি সূক্ষ্ম মেকানিক্যাল শব্দ হয়ে বেলনটি দু-ভাগ হয়ে খুলে গেল। ফলশ্রুতিতে, ওটার ভেতর থেকে একটি প্রাচীন তালপাতার পুঁথি বেরিয়ে এল।
মামা আলোয় পুঁথিটি মেলে ধরলেন। “আদি, এতে মহাস্থানগড়ের মাটির নিচের মূল গুপ্তধনের দিক নির্দেশ করা আছে!”
কিন্তু, ঠিক তখনই সুড়ঙ্গের ভেতরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। আচমকা, সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্ত থেকে একটি যান্ত্রিক খটখট শব্দ ভেসে এল।
তাহলে কি মাটির নিচের এই সুড়ঙ্গেও নতুন কোনো বিপদ লুকিয়ে আছে? আর তালপাতার পুঁথির রহস্য ধরে তারা কীভাবে এগোবে?
(জানতে হলে চোখ রাখুন পরবর্তী ৯ নম্বর পর্বে!)









