আমরা পানির নিচে বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। কারণ মানুষের শ্বাস নেওয়ার জন্য বাতাসের অক্সিজেন প্রয়োজন। কিন্তু মাছ তো প্রায় সারাক্ষণ পানির মধ্যেই থাকে। তাহলে প্রশ্ন হলো, মাছ পানির নিচে শ্বাস নেয় কীভাবে?
মাছের এই অসাধারণ ক্ষমতার মূল রহস্য হলো ফুলকা বা গিলস। ফুলকার সাহায্যে মাছ পানিতে মিশে থাকা অক্সিজেন সংগ্রহ করে। এরপর সেই অক্সিজেন শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে যায়।
চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক, মাছ কীভাবে পানির নিচে শ্বাস নেয়।

পানিতে কি অক্সিজেন থাকে?
হ্যাঁ, পানিতে অক্সিজেন থাকে। তবে সেটি আমাদের শ্বাস নেওয়া বাতাসের মতো সরাসরি পাওয়া যায় না।
বাতাসে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন থাকে। অন্যদিকে পানিতে অক্সিজেন অণু পানির মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
মাছ এই দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যবহার করে শ্বাস নেয়।
তবে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ সবসময় একই থাকে না। পানির তাপমাত্রা, গভীরতা এবং জলজ পরিবেশের ওপর এর পরিমাণ নির্ভর করতে পারে।
মাছের ফুলকা কী?
ফুলকা হলো মাছের প্রধান শ্বাসযন্ত্র।
মাছের মাথার দুই পাশে ফুলকা থাকে। এগুলো সাধারণত ফুলকার ঢাকনার নিচে অবস্থান করে।
ফুলকার ভেতরে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালি থাকে। ফলে পানির সঙ্গে রক্তের খুব কাছাকাছি যোগাযোগ তৈরি হয়।
এই গঠন মাছকে পানি থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করতে সাহায্য করে।
মাছ পানিকে ফুলকার ভেতর নেয় কীভাবে?
মাছ মুখ খুলে পানি ভেতরে নেয়।
এরপর মুখ বন্ধ করার সময় পানিকে ফুলকার দিকে ঠেলে দেয়।
পানি ফুলকার সূক্ষ্ম অংশগুলোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এই সময় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন ফুলকার পাতলা আবরণের মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে।
একই সঙ্গে রক্তের কার্বন ডাই-অক্সাইড পানিতে চলে আসে।
তারপর সেই পানি ফুলকার ঢাকনার পাশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়।
অর্থাৎ প্রক্রিয়াটি অনেকটা এমন—
পানি প্রবেশ → ফুলকার ওপর দিয়ে প্রবাহ → অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ → কার্বন ডাই-অক্সাইড পানিতে বের হয় → পানি বাইরে যায়।
ফুলকা এত কার্যকর কেন?
ফুলকার গঠন মাছের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
এর ভেতরে অনেকগুলো সূক্ষ্ম ফুলকা-পাতা থাকে। এগুলোর সম্মিলিত পৃষ্ঠতল অনেক বড়।
ফলে পানির সঙ্গে রক্তের বেশি সংযোগ তৈরি হয়।
এতে পানি থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করা সহজ হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফুলকার রক্তনালিগুলো খুব সূক্ষ্ম। তাই অক্সিজেন দ্রুত রক্তে প্রবেশ করতে পারে।
মাছ কি পানি পান করে?
মাছের শ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটা পানি প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। তবে শ্বাস নেওয়ার জন্য মাছ পানি ব্যবহার করে, বাতাস নয়।
কিছু মাছ আবার আলাদা উপায়ে পানি বা বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে পারে।
যেমন কিছু মাছ পরিবেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
তবে সাধারণ মাছের ক্ষেত্রে ফুলকাই প্রধান শ্বাসযন্ত্র।
মাছকে পানি থেকে তুলে আনলে কেন সমস্যা হয়?
পানির বাইরে মাছের ফুলকা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না।
পানিতে ফুলকার সূক্ষ্ম অংশগুলো ছড়িয়ে থাকে। ফলে পানির সঙ্গে বড় পৃষ্ঠতল তৈরি হয়।
কিন্তু পানি থেকে বের হলে ফুলকার গঠন অনেকটা একসঙ্গে লেগে যেতে পারে। তখন পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই মাছ পানির বাইরে থাকলে শ্বাস নিতে গুরুতর সমস্যা হয়।
সব মাছ কি একইভাবে শ্বাস নেয়?
না, সব মাছের শ্বাসপ্রক্রিয়া একেবারে একই নয়।
বেশিরভাগ মাছ ফুলকার মাধ্যমে শ্বাস নিলেও কিছু মাছ অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
কিছু মাছ পানির ওপরে উঠে বাতাস থেকেও অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে।
এটি বিশেষ করে এমন পরিবেশে কাজে আসে, যেখানে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে।
পানির অক্সিজেন কমে গেলে কী হয়?
পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে মাছের শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে মাছ অনেক সময় পানির ওপরের দিকে চলে আসে। সেখানে পানি ও বাতাসের সংযোগ বেশি থাকায় অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
দূষিত পানি বা অতিরিক্ত উষ্ণ পানিতেও মাছের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তাই মাছের বেঁচে থাকার জন্য পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত অক্সিজেনযুক্ত পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
