গাছ কীভাবে শ্বাস নেয়, এই প্রশ্নটি অনেকের মনে আসে। আমরা মানুষ নাক দিয়ে বাতাস গ্রহণ করি। কিন্তু গাছের মানুষের মতো নাক বা ফুসফুস নেই। তবুও গাছ নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ করে। গাছের পাতায় থাকা ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এসব ছিদ্রকে স্টোমাটা বলা হয়।

গাছ কীভাবে শ্বাস নেয়?
গাছ মূলত পাতার স্টোমাটার মাধ্যমে বাতাস থেকে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। তবে শ্বাস নেওয়ার কাজ শুধু পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। গাছের কাণ্ড ও শিকড়ের মাধ্যমেও গ্যাসের আদান-প্রদান ঘটে।
দিনের বেলায় গাছ সালোকসংশ্লেষণ করে। এই সময় গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। এরপর সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনও উৎপন্ন হয়।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বাস-প্রশ্বাস এক বিষয় নয়। গাছ দিন-রাত শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়। অন্যদিকে পর্যাপ্ত আলো থাকলেই সালোকসংশ্লেষণ ভালোভাবে হয়।
পাতার স্টোমাটা কীভাবে কাজ করে?
পাতার নিচের অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। এগুলোই স্টোমাটা নামে পরিচিত। সাধারণত স্টোমাটা খোলা ও বন্ধ হতে পারে।
স্টোমাটা খোলা থাকলে বাতাসের গ্যাস পাতার ভেতরে প্রবেশ করে। একইভাবে গাছের ভেতরের কিছু গ্যাস বাইরে বেরিয়ে যায়। এভাবেই গাছের সঙ্গে বাইরের বাতাসের গ্যাসের আদান-প্রদান হয়।
তবে অতিরিক্ত পানি হারানো ঠেকাতেও স্টোমাটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবেশ খুব শুষ্ক হলে গাছ অনেক সময় স্টোমাটা বন্ধ করে দেয়।
গাছ কি রাতে শ্বাস নেয়?
হ্যাঁ, গাছ রাতেও শ্বাস নেয়। রাতের সময় সূর্যের আলো না থাকায় সাধারণত সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে। তবে শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে থাকে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় গাছ অক্সিজেন ব্যবহার করে। এরপর খাদ্য থেকে শক্তি উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।
তাই গাছ শুধু দিনের বেলায়ই শ্বাস নেয়, এমন ধারণা সঠিক নয়।
শিকড় কীভাবে শ্বাস নেয়?
গাছের শিকড় মাটির ভেতরে থাকে। তাই শিকড় সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে থাকে না। তবে মাটির কণার মাঝখানে কিছু বাতাস থাকে।
শিকড় সেই বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। এরপর শিকড়ের কোষে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শক্তি তৈরি হয়।
মাটি যদি অতিরিক্ত পানিতে ভরে যায়, তখন শিকড়ের জন্য সমস্যা হয়। কারণ পানিতে বাতাসের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শিকড় পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না।
গাছের কাণ্ডও কি শ্বাস নেয়?
হ্যাঁ, গাছের কাণ্ডের মাধ্যমেও গ্যাসের আদান-প্রদান হয়। বিশেষ করে কাঠের গাছে কাণ্ডে থাকা ক্ষুদ্র ছিদ্র এই কাজে সাহায্য করে। এসব ছিদ্রকে লেন্টিসেল বলা হয়।
তাই গাছের পাতার পাশাপাশি কাণ্ড ও শিকড়ও শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ভূমিকা রাখে।
গাছ ও মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের পার্থক্য
মানুষ ফুসফুসের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করে। গাছের কোনো ফুসফুস নেই। বরং গাছের বিভিন্ন অংশের কোষ এবং ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে গ্যাসের আদান-প্রদান হয়।
মানুষ শ্বাস নিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে। গাছও শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় অক্সিজেন ব্যবহার করে। তবে দিনের আলোতে সালোকসংশ্লেষণের সময় গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে।
গাছ কেন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে।
এছাড়া গাছ বাতাসকে তুলনামূলক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। গাছ মাটির ক্ষয় কমায় এবং বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয় দেয়। তাই গাছ শুধু আমাদের অক্সিজেনের উৎস নয়। এটি পুরো পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সবশেষে বলা যায়, গাছের শ্বাস-প্রশ্বাস একটি স্বাভাবিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া। পাতার স্টোমাটা, কাণ্ডের লেন্টিসেল এবং শিকড়ের মাধ্যমে গ্যাসের আদান-প্রদান হয়। তাই গাছের কোনো ফুসফুস না থাকলেও তারা আমাদের মতোই জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে যায়।









