কাশি হয় কেন? কারণ ও সহজ করণীয়

কাশি হয় কেন?

কাশি আমাদের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া। ধুলো, ধোঁয়া, জীবাণু বা অতিরিক্ত শ্লেষ্মা শ্বাসনালিতে জমলে কাশি হতে পারে। তাই কাশি হয় কেন—এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া যায় না।

সাধারণত কাশি শ্বাসনালি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তবে দীর্ঘদিন কাশি থাকলে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাই কাশির ধরন এবং অন্যান্য উপসর্গ লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ।

কাশি হয় কেন

কাশির সাধারণ কারণগুলো কী?

কাশির পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আবার একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে একাধিক কারণও কাজ করতে পারে।

১. সর্দি ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ

সাধারণ সর্দি, ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাসে কাশি হতে পারে। সাধারণত এর সঙ্গে নাক বন্ধ, গলা ব্যথা বা হাঁচি দেখা যায়।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল পান করলে ধীরে ধীরে উপসর্গ কমে।

২. অ্যালার্জি

ধুলাবালি, পরাগরেণু বা পোষা প্রাণীর লোমে কারও অ্যালার্জি থাকতে পারে। ফলে গলা চুলকানো এবং শুকনো কাশি শুরু হতে পারে।

অ্যালার্জির ক্ষেত্রে হাঁচি এবং নাক দিয়ে পানি পড়াও দেখা দিতে পারে।

৩. ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ

সিগারেটের ধোঁয়া কাশির একটি পরিচিত কারণ। একইভাবে রান্নার ধোঁয়া এবং বায়ুদূষণও শ্বাসনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এতে দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে।

৪. হাঁপানি

হাঁপানির ক্ষেত্রে শ্বাসনালি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভূত হতে পারে।

কখনও রাতে বা ভোরের দিকে কাশি বেশি হতে পারে।

৫. গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স

পেটের অ্যাসিড উপরে উঠে গলা পর্যন্ত এলে কাশি হতে পারে। অনেক সময় এর সঙ্গে বুক জ্বালা বা মুখে টক স্বাদ দেখা যায়।

তবে সবার ক্ষেত্রে বুক জ্বালার উপসর্গ থাকতেই হবে এমন নয়।

৬. শ্বাসনালির সংক্রমণ

ব্রঙ্কাইটিস বা অন্যান্য শ্বাসনালির সংক্রমণেও কাশি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কাশির সঙ্গে কফ, দুর্বলতা বা জ্বর থাকতে পারে।

কফের রং বা পরিমাণ বদলে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

শুকনো কাশি ও কফের কাশি

কাশিকে সাধারণভাবে শুকনো কাশি এবং কফযুক্ত কাশি হিসেবে দেখা যায়।

শুকনো কাশিতে সাধারণত কফ বের হয় না। গলা খুসখুস করা বা চুলকানোর মতো অনুভূতি হতে পারে।

অন্যদিকে কফযুক্ত কাশিতে শ্বাসনালি থেকে শ্লেষ্মা বের হয়। সংক্রমণ বা শ্বাসনালির প্রদাহে এমন কাশি হতে পারে।

তবে শুধু কাশির ধরন দেখে রোগের কারণ নিশ্চিত করা যায় না।

কাশি হলে কী করতে পারেন?

প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে গলা আর্দ্র থাকে এবং শ্লেষ্মা পাতলা হতে সাহায্য করতে পারে।

এছাড়া ধুলো, ধোঁয়া এবং তীব্র সুগন্ধি থেকে দূরে থাকুন। ঘর পরিষ্কার রাখাও উপকারী।

গরম পানীয় অনেকের গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। এক বছরের বেশি বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মধুও কাশি প্রশমনে সহায়ক হতে পারে।

তবে ছোট শিশুদের মধু দেওয়া উচিত নয়। এছাড়া নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াও ঠিক নয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা রক্ত আসলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। একইভাবে খুব বেশি জ্বর বা দ্রুত অবনতিশীল অবস্থাতেও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

কাশি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে বারবার কাশি হলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

শেষ কথা

কাশি সবসময় কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। অনেক সময় সাধারণ সর্দি বা পরিবেশগত কারণেও কাশি হতে পারে।

তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক কাশি হলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। তাই কাশি কতদিন ধরে আছে এবং সঙ্গে কী উপসর্গ রয়েছে, সেদিকে নজর দিন।

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading