গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে ঘোরে কেন?

গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে ঘোরে কেন?

রাতের আকাশের দিকে তাকালে অসংখ্য তারা দেখা যায়। তবে আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হলো সূর্য। গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে চলেছে। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, গ্রহগুলো কেন সূর্যের দিকে পড়ে যায় না? আবার কেন তারা মহাকাশে ছিটকে দূরে চলে যায় না?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং গ্রহগুলোর গতির মধ্যে।

গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে ঘোরে কেন

সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি

সূর্য সৌরজগতের সবচেয়ে বড় বস্তু। সৌরজগতের মোট ভরের প্রায় পুরোটাই সূর্যের মধ্যে রয়েছে। তাই সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও অনেক বেশি।

মাধ্যাকর্ষণ হলো এমন একটি আকর্ষণ শক্তি। এই শক্তির কারণে দুটি ভরযুক্ত বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে।

সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ গ্রহগুলোকে নিজের দিকে টেনে রাখে। ফলে গ্রহগুলো মহাকাশে সোজা পথে চলে যেতে পারে না। একই কারণে পৃথিবীও সূর্যের চারদিকে কক্ষপথে থাকে।

তাহলে গ্রহগুলো সূর্যের মধ্যে পড়ে যায় না কেন?

এখানেই বিষয়টি সবচেয়ে মজার।

গ্রহগুলোর শুধু সূর্যের দিকে আকর্ষণ নেই। একই সঙ্গে তাদের সামনের দিকে প্রচণ্ড গতি রয়েছে। ফলে সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ গ্রহকে ভেতরের দিকে টানে। অন্যদিকে গ্রহের গতি তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।

এই দুই প্রভাব একসঙ্গে কাজ করায় গ্রহটি সূর্যের চারদিকে ঘুরতে থাকে।

একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যায়। ধরুন, আপনি একটি বল দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছেন। দড়ির টান বলটিকে আপনার দিকে টানে। আবার বলের গতি তাকে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। তাই বলটি বৃত্তাকার পথে ঘোরে।

গ্রহের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই ঘটনা ঘটে। তবে এখানে দড়ির কাজ করে সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ।

গ্রহের কক্ষপথ কীভাবে তৈরি হয়েছে?

বিজ্ঞানীদের মতে, সৌরজগত প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়। তখন মহাকাশে গ্যাস ও ধুলোর বিশাল একটি মেঘ ছিল।

মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে সেই পদার্থ ধীরে ধীরে এক জায়গায় জমা হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে কেন্দ্রে তৈরি হয় সূর্য। চারপাশের পদার্থ থেকে তৈরি হয় গ্রহ এবং অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু।

সেই সময় থেকেই বিভিন্ন বস্তুর গতি ও মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে তাদের কক্ষপথ তৈরি হয়।

তাই গ্রহগুলোর বর্তমান ঘূর্ণন হঠাৎ করে শুরু হয়নি। এটি সৌরজগতের গঠনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সব গ্রহ কি একই গতিতে ঘোরে?

না, প্রত্যেক গ্রহের গতি আলাদা।

সূর্যের কাছের গ্রহগুলো সাধারণত বেশি দ্রুত সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। কারণ তাদের ওপর সূর্যের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি।

অন্যদিকে সূর্য থেকে দূরের গ্রহগুলো ধীরে ধীরে কক্ষপথে ঘোরে।

পৃথিবী সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৩৬৫ দিন সময় নেয়। এ কারণেই আমরা এক বছরকে প্রায় ৩৬৫ দিন হিসেবে গণনা করি।

গ্রহের কক্ষপথ কি পুরোপুরি গোল?

সব গ্রহের কক্ষপথ নিখুঁত বৃত্ত নয়। বরং অধিকাংশ গ্রহ সূর্যের চারদিকে কিছুটা ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে।

তবে পৃথিবীর কক্ষপথ এতটাই সামান্য উপবৃত্তাকার যে সাধারণভাবে সেটিকে প্রায় গোল মনে হয়।

সূর্য না থাকলে কী হতো?

সূর্য যদি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যেত, তাহলে গ্রহগুলোর ওপর সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ আর কাজ করত না।

তখন গ্রহগুলো তাদের বর্তমান কক্ষপথে ঘুরত না। তারা নিজেদের গতির কারণে প্রায় সরল পথে মহাকাশে এগিয়ে যেত।

তবে বাস্তবে সূর্য হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এটি শুধু বিষয়টি বোঝানোর জন্য একটি বৈজ্ঞানিক কল্পনা।

শেষ কথা

গ্রহগুলো সূর্যের চারদিকে ঘোরে মূলত মাধ্যাকর্ষণ ও গতির ভারসাম্যের কারণে। সূর্যের শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ গ্রহগুলোকে নিজের দিকে টানে। আবার গ্রহের গতি তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।

ফলে গ্রহগুলো সূর্যের মধ্যে পড়ে যায় না। আবার মহাকাশেও ছিটকে যায় না। বরং তারা নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে।

এই অসাধারণ ভারসাম্যই আমাদের সৌরজগতকে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে রেখেছে।

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading