দাঁত ভালো রাখার ১০টি সহজ নিয়ম

একটা সুন্দর হাসির পেছনে সুস্থ দাঁতের বড় ভূমিকা আছে। তাই দাঁত ভালো রাখার অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই করা দরকার। দাঁতের সমস্যা হলে খাওয়া, কথা বলা এবং হাসা—সবকিছুতেই অস্বস্তি হতে পারে। তবে নিয়মিত একটু যত্ন নিলেই দাঁতের অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

আমাদের ব্যস্ত জীবনে দাঁতের যত্ন অনেক সময় অবহেলিত হয়। কেউ সকালে তাড়াহুড়ো করে ব্রাশ করেন। আবার কেউ রাতে ক্লান্ত হয়ে ব্রাশ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন। এ ধরনের ছোট ভুল পরে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

তাই চলুন, দাঁত ভালো রাখার কয়েকটি সহজ নিয়ম জেনে নেওয়া যাক।

The current image has no alternative text. The file name is: দাঁত-ভালো.png

১. দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন

দাঁতের যত্নের প্রথম নিয়ম হলো নিয়মিত ব্রাশ করা। সকালে নাশতার আগে বা পরে ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করুন।

আবার রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ব্রাশ করুন। বিশেষ করে রাতের ব্রাশটি কোনোভাবেই বাদ দেওয়া উচিত নয়।

কারণ সারাদিনের খাবারের কণা তখন দাঁতের ফাঁকে জমে থাকে।

২. তাড়াহুড়ো করে ব্রাশ করবেন না

ব্রাশ হাতে নিলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। দাঁতের সব অংশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার করতে হবে।

সামনের দাঁতের পাশাপাশি পেছনের দাঁতও ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। মাড়ির কাছের অংশেও নজর দিন।

তবে খুব জোরে ব্রাশ করবেন না। এতে মাড়িতে আঘাত লাগতে পারে।

৩. ভালো টুথপেস্ট ব্যবহার করুন

দাঁতের জন্য উপযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দাঁতের ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।

তবে শিশুদের জন্য টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার সময় বয়সের বিষয়টি মনে রাখুন।

৪. দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন

শুধু ব্রাশ করলেই দাঁতের সব জায়গা পরিষ্কার হয় না। দাঁতের মাঝখানে অনেক সময় খাবারের ছোট কণা আটকে থাকে।

সেখানে জীবাণু জমে দাঁতের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই প্রয়োজনে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন।

শুরুতে ফ্লস ব্যবহার একটু কঠিন মনে হতে পারে। তবে অভ্যাস হয়ে গেলে এটি বেশ সহজ।

৫. মিষ্টি খাবার কম খান

মিষ্টি খেতে কে না ভালোবাসে? কিন্তু অতিরিক্ত মিষ্টি দাঁতের জন্য ভালো নয়।

চকলেট, ক্যান্ডি, কেক এবং চিনিযুক্ত পানীয় বেশি খেলে দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই মিষ্টি খাবার একেবারে বাদ দেওয়ার দরকার নেই। বরং পরিমাণ কমিয়ে মাঝে মাঝে খাওয়াই ভালো।

৬. বেশি করে পানি পান করুন

পানি আমাদের শরীরের জন্য যেমন দরকার, তেমনি মুখের জন্যও উপকারী। পানি মুখের খাবারের কণা ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে।

এছাড়া পর্যাপ্ত পানি মুখ শুকিয়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে। তাই দিনের মধ্যে নিয়মিত পানি পান করুন।

মিষ্টি পানীয়ের বদলে সাধারণ পানি বেছে নেওয়া আরও ভালো অভ্যাস।

৭. ধূমপান ও তামাক এড়িয়ে চলুন

ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে না। এটি দাঁত ও মাড়ির জন্যও ভালো নয়।

ধূমপানের কারণে দাঁতে দাগ পড়তে পারে। মুখে দুর্গন্ধও হতে পারে।

তাই দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে ধূমপান এবং তামাকজাত পণ্য এড়িয়ে চলুন।

৮. দাঁত দিয়ে শক্ত জিনিস খুলবেন না

অনেকে দাঁত দিয়ে বোতলের ঢাকনা খোলেন। আবার কেউ শক্ত প্যাকেট ছিঁড়তেও দাঁত ব্যবহার করেন।

এটি দেখতে সহজ মনে হলেও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এতে দাঁত ফেটে বা ভেঙে যেতে পারে।

তাই এসব কাজের জন্য দাঁতের বদলে উপযুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।

৯. মাঝে মাঝে ডেন্টিস্টের কাছে যান

দাঁতে ব্যথা হলেই শুধু ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া উচিত নয়। নিয়মিত দাঁত পরীক্ষা করানোও দরকার।

কারণ দাঁতের কিছু সমস্যা শুরুতে বোঝা যায় না। পরীক্ষা করলে সেগুলো আগেই ধরা পড়তে পারে।

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দাঁতে ব্যথা বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থাকলে অবশ্যই ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।

১০. দাঁতের জন্য ভালো খাবার খান

দাঁত সুস্থ রাখতে খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। দুধ, ডিম, মাছ, শাকসবজি এবং পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেতে পারেন।

সুষম খাবার শরীরের পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির জন্যও উপকারী। তাই শুধু ব্রাশ করলেই হবে না।

খাবারের অভ্যাসও স্বাস্থ্যকর হওয়া দরকার।

জিহ্বা পরিষ্কার রাখুন

দাঁতের পাশাপাশি জিহ্বাও পরিষ্কার করা উচিত। জিহ্বার ওপর খাবারের কণা এবং জীবাণু জমতে পারে।

ফলে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন ব্রাশ করার সময় জিহ্বাও আলতো করে পরিষ্কার করুন।

টুথব্রাশ পরিষ্কার রাখুন

ব্যবহারের পর টুথব্রাশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর এটি শুকানোর জন্য খোলা জায়গায় রাখুন।

ব্রাশের শলাকা বাঁকা হয়ে গেলে নতুন ব্রাশ ব্যবহার করুন। সাধারণত কয়েক মাস পরপর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা ভালো।

Leave a Reply

Scroll to Top

Discover more from BR Creatives

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading