সকালে ঘুম থেকে উঠতে অনেকেরই বেশ কষ্ট হয়। অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসও দেখা যায়। ফলে দিনের শুরুতেই তাড়াহুড়ো তৈরি হয়। কাজের পরিকল্পনাও অনেক সময় এলোমেলো হয়ে যায়।
তবে সকালে সহজে ওঠা অসম্ভব নয়। বরং নিয়মিত কিছু অভ্যাস গড়ে তুললেই পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠা সহজ করতে আজ থেকেই কয়েকটি নিয়ম মেনে চলুন।
১. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান
সকালে সহজে উঠতে হলে রাতের ঘুমের সময় ঠিক করা জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
একইভাবে প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুম থেকে উঠুন। এতে শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি ধীরে ধীরে নিয়মিত হতে পারে।
তাই ছুটির দিনেও ঘুমের সময় খুব বেশি পরিবর্তন করবেন না। নিয়মিত সময়সূচি বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো।
২. ঘুমানোর আগে ফোন থেকে দূরে থাকুন
রাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে ঘুমানোর সময় পিছিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনকে ব্যস্ত রাখে।
তাই ঘুমানোর আগে কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকুন। সম্ভব হলে ফোনটি বিছানা থেকে কিছুটা দূরে রাখুন।
এর পরিবর্তে বই পড়তে পারেন। হালকা গান শুনেও মনকে শান্ত করার চেষ্টা করতে পারেন।
৩. সকালে অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুমাবেন না
অ্যালার্ম বাজার পর আবার ঘুমানোর অভ্যাস সকালে ওঠা আরও কঠিন করে। তাই অ্যালার্ম বন্ধ করার পর বিছানা ছেড়ে দিন।
প্রথমদিকে বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। তবে নিয়মিত চেষ্টা করলে অভ্যাসটি সহজ হয়ে যাবে।
প্রয়োজনে অ্যালার্ম ঘড়ি বিছানা থেকে কিছুটা দূরে রাখুন। এতে সেটি বন্ধ করতে আপনাকে উঠে দাঁড়াতে হবে।
৪. ঘুম থেকে উঠে আলো নিন
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রাকৃতিক আলো শরীরকে দিনের সময় বুঝতে সাহায্য করে। তাই পর্দা সরিয়ে জানালার কাছে কিছুক্ষণ দাঁড়ান।
সম্ভব হলে সকালে বাইরে অল্প সময় হাঁটুন। এতে শরীর ও মন দুটোই সক্রিয় হতে পারে।
তবে অতিরিক্ত রোদে দীর্ঘ সময় থাকা প্রয়োজন নেই। আরামদায়ক পরিবেশে সকালের আলো উপভোগ করাই যথেষ্ট।
৫. ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করতে পারেন। রাতে দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার পর এটি সতেজ লাগতে পারে।
তবে খুব বেশি পানি একসঙ্গে পান করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক পরিমাণ পানি দিয়ে দিন শুরু করুন।
এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নাশতা এবং অন্যান্য সকালের কাজ সম্পন্ন করুন।
৬. সকালে ছোট একটি রুটিন তৈরি করুন
সকালের জন্য একটি সহজ রুটিন তৈরি করলে ঘুম থেকে ওঠার আগ্রহ বাড়তে পারে। তাই কয়েকটি পছন্দের কাজ ঠিক করে রাখুন।
যেমন পাঁচ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা বই পড়া। এছাড়া গাছের যত্ন নেওয়াও সুন্দর একটি অভ্যাস হতে পারে।
ফলে সকালটি শুধু ঘুম থেকে ওঠার সময় থাকবে না। বরং নিজের জন্য সুন্দর একটি সময় হয়ে উঠবে।
৭. রাতে পরের দিনের প্রস্তুতি নিন
সকালে তাড়াহুড়ো হলে আবার বিছানায় থাকতে ইচ্ছা করতে পারে। তাই রাতে পরের দিনের প্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্তুত করে রাখুন।
পোশাক, ব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় কাগজ আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন। পাশাপাশি সকালের কাজের একটি ছোট তালিকা তৈরি করুন।
এতে সকালে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ কমবে। ফলে ঘুম থেকে উঠে দ্রুত দিনের কাজ শুরু করা সহজ হবে।
সকালে সতেজ থাকার আরও কিছু কৌশল
শুধু ঘুম থেকে উঠলেই দিনটি সতেজ হবে না। বরং রাতের ঘুমের মানও ভালো হওয়া প্রয়োজন।
তাই রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করাও কমাতে পারেন।
এছাড়া শোবার ঘর শান্ত, আরামদায়ক এবং অন্ধকার রাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডও ঘুমের অভ্যাসে সহায়ক হতে পারে।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন?
পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি প্রতিদিন খুব বেশি ঘুমঘুম ভাব থাকে, বিষয়টি গুরুত্ব দিন। নিয়মিত নাক ডাকা বা রাতে বারবার জেগে ওঠাও লক্ষ্য করুন।
এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। কারণ কখনো কখনো ঘুমের সমস্যার পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে।
শেষ কথা
সকালে সহজে ঘুম থেকে ওঠা একদিনে সম্ভব হয় না। বরং নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে শরীর নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
তাই প্রথমে ঘুমানোর সময় ঠিক করুন। এরপর ফোনের ব্যবহার কমিয়ে সকালের জন্য ছোট রুটিন তৈরি করুন।
পাশাপাশি সকালে আলো নিন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন একই নিয়ম ধরে রাখার চেষ্টা করা।
আজ থেকেই ছোট একটি পরিবর্তন শুরু করুন। কয়েক সপ্তাহ পর দেখবেন, সকাল শুরু করাটা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।
