কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা এখন অনেকের পরিচিত সমস্যা। তবে কিছু সহজ অভ্যাসে এই সমস্যা কমানো সম্ভব।
বই খুলে বসেছেন, কিন্তু বারবার মোবাইল দেখতে ইচ্ছে করছে। আবার কাজ শুরু করেও কিছুক্ষণ পর মন অন্যদিকে চলে যাচ্ছে।
ফলে সময় চলে যায়, অথচ গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ হয় না। তবে এর জন্য নিজেকে দোষ দেওয়ার দরকার নেই।
বরং প্রথমে সমস্যার কারণ বুঝতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।
কেন মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়?
মনোযোগ নষ্ট হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার বড় একটি কারণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ছোট ভিডিও মনকে দ্রুত উত্তেজিত করে। ফলে দীর্ঘ সময় একটি কাজে থাকা কঠিন হতে পারে।
এছাড়া ঘুমের অভাবও মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে। শরীর ক্লান্ত থাকলে মস্তিষ্কও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত চিন্তা মনকে অস্থির করে তোলে। ফলে সামনে থাকা কাজের দিকে মন দেওয়া কঠিন হয়।
একসঙ্গে অনেক কাজ করবেন না
অনেকে একই সময়ে কয়েকটি কাজ করার চেষ্টা করেন। যেমন, পড়াশোনার সময় মোবাইল দেখা এবং গান শোনা।
ফলে কোনো কাজেই পুরো মনোযোগ থাকে না। তাই একবারে একটি কাজ করার অভ্যাস করুন।
প্রথমে একটি ছোট কাজ নির্বাচন করুন। এরপর সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কাজে যাবেন না।
এভাবে কাজ করলে মন ধীরে ধীরে একাগ্র হতে শিখবে। একইসঙ্গে কাজের গতি বাড়তে পারে।
কাজকে ছোট অংশে ভাগ করুন
বড় কোনো কাজ দেখলে অনেক সময় শুরু করতে ইচ্ছে করে না। তাই কাজটিকে ছোট অংশে ভাগ করুন।
ধরুন, আপনাকে একটি অধ্যায় পড়তে হবে। একবারে পুরো অধ্যায় পড়ার লক্ষ্য না রেখে কয়েক পৃষ্ঠা পড়ুন।
তারপর কিছুক্ষণ বিরতি নিন। এরপর আবার পরের অংশ শুরু করুন।
এভাবে ছোট লক্ষ্য পূরণ করলে কাজটি সহজ মনে হবে। পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
মোবাইল থেকে দূরে থাকুন
মনোযোগ ধরে রাখতে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজের সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
সম্ভব হলে ফোনটি আপনার কাছ থেকে দূরে রাখুন। এতে বারবার ফোন দেখার অভ্যাস কমবে।
বিশেষ করে পড়াশোনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলুন। কারণ কয়েক মিনিটের বিরতিও দীর্ঘ সময়ে পরিণত হতে পারে।
নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করুন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করার চেষ্টা করুন। কারণ নিয়মিত রুটিন মস্তিষ্ককে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।
শুরুতে দীর্ঘ সময় কাজ করার চেষ্টা করবেন না। বরং ২০ থেকে ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজ করুন।
তারপর পাঁচ মিনিটের ছোট বিরতি নিন। এরপর আবার কাজ শুরু করুন।
ক্রমে কাজের সময় বাড়াতে পারেন। তবে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করুন।
ঘুম এবং বিশ্রামকে গুরুত্ব দিন
পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ ধরে রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিন নিয়মিত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
রাত জেগে কাজ করলে পরদিন ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। ফলে পড়াশোনা বা কাজে আগ্রহ কমে যেতে পারে।
এছাড়া কাজের মাঝেও ছোট বিরতি নিন। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলেও মন সতেজ হতে পারে।
কাজের জায়গা গুছিয়ে রাখুন
অগোছালো পরিবেশ অনেক সময় মনোযোগ নষ্ট করে। তাই কাজ শুরুর আগে টেবিলটি পরিষ্কার করুন।
শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস সামনে রাখুন। অপ্রয়োজনীয় কাগজ এবং অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে রাখুন।
ফলে চোখের সামনে কম বিভ্রান্তি থাকবে। একইসঙ্গে কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়তে পারে।
নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না
একদিনেই মনোযোগের বড় পরিবর্তন আশা করা ঠিক নয়। বরং প্রতিদিন ছোট ছোট পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।
আজ যদি ২০ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন, সেটিই ভালো শুরু। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ান।
মাঝে ভুল হলে হতাশ হবেন না। বরং আবার কাজের দিকে ফিরে আসুন।
শেষ কথা
কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে নিয়মিত অভ্যাস পরিবর্তন করলে উন্নতি সম্ভব।
প্রথমে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ করুন। এরপর কাজকে ছোট অংশে ভাগ করুন।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নিন। সর্বোপরি, নিজের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করুন।
মনে রাখবেন, মনোযোগ একটি অভ্যাসও হতে পারে। তাই প্রতিদিন একটু অনুশীলন করুন এবং ধৈর্য ধরে এগিয়ে যান।
