Welcome to My Creative World

 

Mohammed Rashid (M.R. Sterling):

Digital Artist. Author. Explorer.

I don’t just tell stories; I build worlds. As a freelance creator, I blend the soul of traditional storytelling with the power of modern AI. From the pages of my children’s books and adventure novels on Amazon KDP to the vibrant digital galleries of Etsy and Redbubble, I bring “cinematic vision” to life.

🖋️ Author | 🎨 AI Artist | 📷 Photographer | ✨ Visionary Turning the sparks of imagination into digital reality.

পর্ব ১🌿✨ আমাজনের পথে অভিযান

রহস্যে ঘেরা আমাজনে আরিয়ান এবং ইরার এডভ্যাঞ্চার

সকাল সকাল মামা মামীর থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ল আরিয়ান আর ইরা। একটা জিপ গাড়ী চেপে রওনা দিল তারা আমাজন রেইন ফরেস্টের উদ্দেশ্যে। চলতি পথের চারপাশের ঘন জঙ্গল, বিশাল বিশাল গাছের ছায়া আর পাখিদের ডাক যেন রহস্যে ভরা এক নতুন জগৎ । 🦜🌳

সন্ধ্যার দিকে তারা পৌঁছাল  আমাজন জংগলের পাশে “মানাউস” নামের একটা  গ্রামে। এখানে থাকার মত ঘর ভাড়া এবং ট্যুর গাাইড পাওয়া যায়। গ্রামের মানুষজন তাদের স্বাগত জানাল, খাওয়া-দাওয়া আর রাত কাটানোর নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যাবস্থা করে দিল। আগুনের চারপাশে বসে গ্রামের লোকেরা ভয়াবহ জঙ্গলের গল্প শোনাল, আরিয়ান আর ইরা মনোযোগ দিয়ে তাদের কথাগুলো শুনল। কারণ তারা জানে, আগামীকাল থেকেই শুরু হবে তাদের সত্যিকারের আমাজন অভিযান। 🌌🔥

পর্ব ২🌿✨ আমাজনের মানাউস গ্রামে নতুন সকাল

রহস্যে ঘেরা আমাজনে আরিয়ান এবং ইরার এডভ্যাঞ্চার

আরিয়ান আর ইরা এখন রোমাঞ্চকর আমাজন নদী ভ্রমণের পরিকল্পনা করছে।

মানাউসের গ্রামের ভোর বেলা, আরিয়ান আর ইরা ঘুম থেকে উঠতেই অবাক হয়ে গেল—তাদের জন্য বাননো হয়েছে সুস্বাদু স্থানীয় নাস্তা। ফল, মধু, আর গ্রামবাসীর হাতে তৈরি খাবারের গন্ধে সকালটা যেন একেবারে অন্য রকম হয়ে উঠল। 🍯🍌🥭

নাস্তার পর তারা বের হল গ্রামের সরু পথে, সাথে গাইড, যিনি নদীর দিকটা দেখাচ্ছিলেন আর গল্প শোনাচ্ছিলেন গ্রাম আর আমাজন অরণ্যের। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে গাইড তাদের বললেন, কিভাবে আমাজন নদীতে ভ্রমণ করা যায়—কোন নৌকা লাগবে, কোথায় সাবধান থাকতে হবে আর কোথায় প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর রূপ দেখা যাবে। আরিয়ান আর ইরা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল, কারণ তারা জানে, তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় এডভেঞ্চার শুরু হতে চলেছে আগামী কাল।

🌊✨ পর্ব ৩: আমাজন নদী পথে যাত্রা শুরু

রহস্যে ঘেরা আমাজনে আরিয়ান এবং ইরার এডভ্যাঞ্চার

  নাস্তার পর গাইড রদ্রিগো ছোট্ট একটি কাঠের নৌকায় আরিয়ান আর ইরাকে তুলে দিয়ে নিজেও উঠে বসল। চারপাশে আমাজন নদীর বিশাল জলরাশি—মাঝে মাঝে জঙ্গলের লম্বালম্বা গাছের প্রতিচ্ছবি ভাসছে। প্রথমে নদী শান্ত হলেও হঠাত নদীর পানির নিচ থেকে অদ্ভুত ঢেউ উঠতে শুরু করল।

রদ্রিগো ফিসফিস করে বলল, “সাবধান, এখানে প্রায়ই বিশাল অ্যানাকোন্ডা দেখা যায়, আক্রমন করে।”

হঠাৎ পানির ভেতর থেকে এক বিশাল দৈত্যাকার সাপের মাথা বেড়িয়ে এল। তাদের ছোট্ট নৌকা দুলতে শুরু করে দিল, আরিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বঁইচি ধরে রাখল, ইরা ভয় পেলেও সাহস নিয়ে ছবি তুলতে লাগল। সাহসী রদ্রিগোর হাতের বঁইচির এক বিশাল আঘাতে অ্যানাকোন্ডার দৈত্যাকার মাথাটা আবার পানির নীচে হারিয়ে গেল। রদ্রিগো হাঁফ ছেড়ে বলল, এবারের মত বাঁচা গেল।

🌊🔥 পর্ব ৪: কুমিরের আক্রমণ

রহস্যে ঘেরা আমাজনে আরিয়ান এবং ইরার এডভ্যাঞ্চার

বিকেলের দিকে নদীর চারপাশ গাঢ় গা ছম ছম অন্ধকারে ঢেকে গেল। হঠাৎ পানির নিচ থেকে ভয়ঙ্কর  শব্দ করে লাফিয়ে উঠল এক বিশালাকার কুমির!। মুহুর্তের মধ্যে নৌকাটা কেঁপে উঠে দুলতে শুরু করে দিল, রদ্রিগো দ্রুত দাঁড় টেনে নৌকাকে সরে নিতে চেষ্টা করল। আরিয়ান একটি লম্বা বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করল কুমিরের চোখে মুখে, ইরা ভয়ে চিৎকার করে রদ্রিগোকে বেশী কাছে যেতে সাবধান করল।

কুমিরের চোখ তখন অগ্নির মতো জ্বলছিল, নৌকার চারপাশে লেজ ঘুরিয়ে ঘরিয়ে ঘুরছিল বারবার। হঠাত নদীর অন্যপ্রান্তে কি একটা শব্দ শুনে সেদিকে ছুটে গেল।  কিন্তু সারাটা রাতের জন্য সবার মনে ভয় রয়েই গেল, যদি আবার ফিরে আসে!

🌊🌌 পর্ব ৫: জঙ্গলের ভৌতিক রাত

রহস্যে ঘেরা আমাজনে আরিয়ান এবং ইরার এডভ্যাঞ্চার

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে রদ্রিগো নৌকাটা নদীর ধারে থামিয়ে বেঁধে ফেলল। চারপাশ ঘন নিকষ অন্ধকার, কিছুই দেখা যায়না। এরপর রদ্রিগো সবার হাতে একটি করে মশাল ধরিয়ে দিল নিজেদের সুরক্ষার জন্য। হঠাত মশালের আলোতে জঙ্গলের মাঝে অদ্ভুত টর্চের আলোর মত দুটো আলো দেখতে পেল আরিয়ান, যেন তীব্র আলোর দুটো চোখ জ্বলজ্বল করে তাদের দেখছে।

হঠাৎ জঙ্গল থেকে কর্কশ  চিৎকারের শব্দ শোনা গেল, যেন কোনো অজানা বন্য প্রাণী। ইরা রদ্রিগোকে জিজ্ঞেস করল, “এটা কি কোন হিংস্র প্রাণীর ডাক?”

রদ্রিগো ভীত কাঁপা গলায় বলল, “সবাই একে ‘নাইট হান্টার” বলে। এর মুখোমুখি হলে কেউ আর বেঁচে ফিরে আসতে  পারেনা, ভিষন হিংস্র প্রানী।”

আরিয়ান সাহস করে মশাল উঁচু করে ধরল। মুহূর্তের জন্য দেখা গেল, গাছের আড়াল থেকে  চোখ দুটো আস্তে আস্তে সরে গেল। নৌকার সবাই সতর্ক হয়ে ভয়ে ভয়ে বসে রইল সারা রাত।

🌊⚡ পর্ব ৬: মৃত্যুর স্রোত

🌊⚡ রহস্যে ঘেরা আমাজনে আরিয়ান এবং ইরার এডভ্যাঞ্চার

ভোর হতেই নৌকা আবার নদীর বুকে ভেসে চলল। কিন্তু এবার নদী শান্ত ছিল না। বজ্রপাতের মতো শব্দ করে হঠাৎ তীব্র স্রোত শুরু হলো। পানি উঁচু হয়ে উঠল, যেন এক মৃত্যুফাঁদ।

রদ্রিগো চিৎকার করে বলল, “দাঁড় শক্ত করে ধরো! আমাদের অনেক সাবধান থাকতে হবে, এখানে ডুবে গেছে অনেক নৌকা!”

স্রোতের সাথে ভেসে আসছিল ভাঙা গাছ, আর দূরে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ছিল বিশালাকৃতির কাইমান (অন্যরকম কুমির প্রজাতি)। নৌকা ডুবতে ডুবতে বেঁচে গেল, আরিয়ান দাঁড় টেনে স্রোতের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল, ইরা চোখের জল মুছতে মুছতেও সাহস করে ছবি তুলতে ভুললনা।

অবশেষে কোনো রকমে নৌকাটা শান্ত জলের দিকে পৌঁছল। সবার মুখের আতঙ্ক,ভাবটা চলে গেল,  কিন্তু একইসাথে আরিয়ান আর ইরার মনে এখন অনেক দৃঢ়তা জন্ম নিল, তারা এখন আগের থেকে অনেক সাহসী।—রদ্রিগো বলল এখানে গাছের ছায়ায় আমরা একটু বিশ্রাম নিয়ে নেই, এখনো অনেকটা পথ যেতেহবে।